সংবাদদাতা, কাটোয়া: রাজ্যের কোথাও টমেটোর দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। সবর্ত্রই এবার টমেটোর দাম মিলছে না। দু’-এক টাকায় টাকায় বিক্রি হচ্ছে টমেটো। তাই জমি থেকে টমেটো তোলার জন্য আর খরচ করতে রাজি নন চাষিরা। অনেকে জমিতে পড়ে থাকা টমেটোর উপরেই লাঙল চালিয়ে পাটের জন্য জমি তৈরি করছেন। কেউ কেউ গোরুকে খাইয়ে দিচ্ছেন মাঠের ফসল। এই পরিস্থিতিতে পূর্বস্থলী, দাঁইহাটের চাষিরা টমেটোর প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার দাবি করছেন।
চাষিদের দাবি, বাজারে নিয়ে গেলে টমেটোর দাম পাওয়া যাচ্ছে না, তাই সরকার টমেটো কিনে সস তৈরি করুক। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সস তৈরি শেখাক। তাতে অন্তত চাষিদের দু’ পয়সা লাভ হবে। রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, পূর্বস্থলীতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট চালু হয়েছে। সেখানে প্রক্রিয়াকরণ করা যেতেই পারে। চাষিদের দাবি নিয়ে আমি রাজ্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করব।
পূর্বস্থলীর কুকসিমলা গ্রামের এক চাষি বলেন, ২৫ হাজার টাকা খরচ করে ১৮ কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম, ওই টমেটো তুলতে গেলে শ্রমিকের যা মজুরি লাগবে সেই টাকা ওই টমেটো বিক্রি করে পাব না। তাই ফসল জমিতেই পড়ে থাক। সরকার যদি নির্দিষ্ট দাম নিয়ে কিনে নিয়ে প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা করত তাহলে আমাদের চাষের খরচটা অন্তত উঠত। দাঁইহাটের রাজু চৌধুরী কয়েক কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলেন। তিনি ক্রেট ভর্তি টমেটো গোরুকে খাওয়াচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ঋষিমুনি চৌধুরী বলেন, টমেটো বেশির ভাগটাই জমিতে পড়েছিল। আমরা ওর উপরেই ফাল চালিয়ে চাষ দিয়েছি। পাট লাগাতে হবে। তাই এখন থেকেই জমি প্রস্তুত করতে হবে। চাষি নিতাই বৈরাগ্য বলেন, প্রচুর খরচ হয়েছিল চাষ করতে। সব শেষ হয়ে গেল। এই ক্ষতি পূরণ হবে কী করে জানা নেই। জানা গিয়েছে, কাটোয়া, পূর্বস্থলী এলাকায় সব্জি সংরক্ষণের উপযুক্ত বহুমুখী হিমঘর নেই। কাটোয়ায় ও পূর্বস্থলীতে একটি করে থাকলেও তা বন্ধ।
মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ হল টমেটো চাষের সময়। এ বার ভালো অনুকুল আবহাওয়া থাকায় ফলন বেশি হয়েছে। চাষিরা বলছেন, টমেটো থেকে সস তৈরি করে বিক্রির ব্যবস্থা করলে সমস্যা মিটত। আবার কিসান মান্ডিগুলিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে টমেটো সস তৈরির ব্যবস্থা করলে চাষিদের চোখে জল ফেলতে হত না।