নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্যাস, পেট ব্যথার জন্য ডাক্তার দেখিয়ে তারপর ওষুধ কিনেছিলেন। খাওয়ার পর হঠাৎই প্রচণ্ড গা গোলাচ্ছে। মাথা ঘুরছে। মনে হচ্ছে, এই বুঝি বমি করে দেবেন। শেষমেশ ডাক্তারবাবুকে ফোন করে ওষুধ বন্ধ করার পর নিস্তার পেলেন কালীঘাটের বনমালী সাঁপুই।
ওষুধ খাওয়ার পর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিরল তো নয়, বরং অসংখ্য মানুষ তার শিকার। কারও বমিভাব, গা গোলানো, কারও সারা শরীরে র্যাশ বেরনো, কারও আবার প্রচণ্ড চুলকানি, অনেকের নাড়ির গতি হু হু করে বেড়ে যাওয়া—এমন নানা ধরনের বিচিত্র অভিজ্ঞতার সাক্ষী বহু মানুষ। এমনকি, ওষুধ খাওয়া বা ইঞ্জেকশন নেওয়ার পর হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার এবার রীতিমতো নির্দেশনামা জারি করে জনসাধারণকে জানাল, ওষুধ খাওয়ার পর যে কোনও ধরনের ‘অ্যাডভার্স ইভেন্ট’ বা ‘পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া’ ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের জানান। এর জন্য একটি টোল ফ্রি নম্বর এবং একটি কিউ আর কোড দিয়েছে তারা।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ন্যাশনাল কো অর্ডিনেশন সেন্টার-ফার্মাকোভিজিলেন্স প্রোগ্রাম অব ইন্ডিয়া’ জনস্বার্থে এই নির্দেশ জারি করেছে। দেশের যে কোনও মানুষের ওষুধ খাওয়ার পর ‘এডিআর’ বা ‘অ্যাডভার্স ড্রাগ রিঅ্যাকশন’ নথিবদ্ধ করবার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর।
টোল ফ্রি নম্বরটি হল ১৮০০১৮০৩০২৪। দেশের সমস্ত খুচরো এবং পাইকারি ওষুধের দোকানে সর্বসমক্ষে এই টোল ফ্রি নম্বর এবং কিউ আর কোড জরুরি ভিত্তিতে টাঙাতে বলেছে কেন্দ্র। দোকানদারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন এআইওসিডি’র হিসেব অনুযায়ী, এই নির্দেশ বলবৎ করতে হবে দেশের সাড়ে ১২ লক্ষ খুচরো ও পাইকারি ওষুধ দোকানকে।
ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখার জাতীয় ফার্মাকোভিজিলেন্স অ্যাডভাইজারি কমিটির প্রাক্তন সদস্য তথা কলকাতা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ অঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘অত্যন্ত দরকারি পদক্ষেপ। এর ফলে একটা সময় যে কেউ যে কোনও সংস্থার বিভিন্ন ধরনের ওষুধে কী কী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, দেখতে পারবেন। প্রস্তুতকারকদেরও সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। বারবার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে সরকার যে তাদের ছেড়ে দেবে না, বলা বাহুল্য।’ শহরের একটি বড় ওষুধের দোকান গোষ্ঠীর কর্ণধার সোমনাথ ঘোষ বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নির্দেশ জারি হওয়ায় দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে ওষুধ কিনে খেয়ে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলেও অভিযোগ জানানো সম্ভব হবে।’