Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ির ব্যক্তিগত ইলেক্ট্রিক সমস্যাতেও টোল ফ্রিতে অভিযোগ, বিপাকে কর্মীরা

বাড়ির ব্যক্তিগত ইলেক্ট্রিক সমস্যাতেও টোল ফ্রিতে অভিযোগ, বিপাকে কর্মীরা
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রেজিস্টার্ড নম্বর থেকে মিসড কল দিলেই অভিযোগ লিপিবদ্ধ হচ্ছে বীরভূম জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরে। তড়িঘড়ি কর্মীরা রেকর্ডে থাকা গ্রাহকের নাম ও ঠিকানা ধরে গ্রাহকদের বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানও হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ, সেই সুবিধারই কেউ কেউ অপব্যবহার করছে। বাড়ির ব্যক্তিগত ইলেক্ট্রিক সমস্যাতেও ১৯১২১ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করছেন। কর্মীরা এসে দেখছেন, সেটা বিদ্যুৎ দপ্তরের পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা নয়। একজন তো আবার সাম্প্রতিক সময়ে ১৮০০-র বেশি মিসড কল করেছেন। গ্রাহকদের এহেন কর্মকাণ্ডে তিতিবিরক্ত বিদ্যুৎ দপ্তর। ঝড়বৃষ্টির মরশুমে জেলার সার্বিক বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে দপ্তরের কর্মীদের এমনিতেই ল্যাজেগোবরে অবস্থা হচ্ছে। এই সমস্যা থেকে কীভাবে পরিত্রাণ মিলবে, সেই পথ খুঁজে পাচ্ছেন না দপ্তরের আধিকারিকরা। স্বাভাবিকভাবেই দপ্তরের কর্তারা যথেষ্টই চিন্তিত হয়ে উঠেছেন। এক আধিকারিক বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য জেলার সার্বিক বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু, টোল ফ্রি নম্বরে মিসড কলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে বহু গ্রাহক নিজেদের বাড়ির ছোটখাট সমস্যার সমাধানে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের কাজে লাগাচ্ছেন। মূলত খরচ এড়াতেই তাঁরা এই পন্থা অবলম্বন করছেন। ঘটনায় জেলার সার্বিক কাজকর্ম করতে গিয়ে আমাদের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একাধিক ক্ষেত্রে জরুরিকালীন কাজের গতিও থমকে যাচ্ছে। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, টোল ফ্রি এই নম্বরে ফোন করে বিস্তারিত সমস্যা জানানোর প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র একটি মিসড কলেই অভিযোগ লিপিবদ্ধ হয়। এরপরই গ্রাহকের নথি যাচাই করে তড়িঘড়ি দপ্তরের কর্মীরা তাঁদের বাড়ি পৌঁছে যান। দপ্তর সূত্রে খবর, মিসড কলের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি সহজ সরল হওয়ায় বহু গ্রাহক ব্যক্তিগত স্বার্থে তা ব্যবহার করছেন। অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে দপ্তরের কর্মীরা মিসড কলের ভিত্তিতে গ্রাহকের বাড়ি পৌঁছে জানতে পারেন শুধুমাত্র ফিউজে সমস্যা রয়েছে। আবার কোনও ক্ষেত্রে এমসিবি ডাউন হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও নজরে এসেছে। এছাড়াও ঝড়বৃষ্টি চলাকালীন বহু গ্রাহক একাধিক মিসড কল করে দপ্তরের কর্মীদের নাজেহাল করে ছাড়ছেন। দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এক গ্রাহক ১৮০০-র বেশি মিসড কল করেছেন। ঘটনায় জেলার সার্বিক কাজকর্ম করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে দপ্তরের কর্মীদের।
বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি থেকে মেন লাইন অর্থাৎ মিটার বক্স পর্যন্ত দেখভালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তত্ত্বাবধানে থাকে। এরপর অর্থাৎ গ্রাহকের বাড়ির ভিতরে বিদ্যুতের পরিষেবায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা ব্যক্তিগতভাবে ইলেক্ট্রিশিয়ান ডাকার করার কথা। এক্ষেত্রে অবশ্য গ্যাঁটের কড়ি খরচ হয়। সেক্ষেত্রে ন্যূনতম খরচ ২০০ টাকা। অভিযোগ, সেই খরচ বাঁচাতেই বহু গ্রাহক বর্তমান সময়ে টোল ফ্রি নম্বরে মিসড কল করে দপ্তরের ঘুম উড়িয়ে রেখেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ