নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: রাস্তা পূর্তদপ্তরের। কিন্তু টোল নিচ্ছে পঞ্চায়েত! পুরশুড়ার চিলাডাঙ্গি পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা তুলে ধরে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। সোমবার পুরশুড়ার বিধায়ক বিজেপির বিমান ঘোষ এই ব্যাপারে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ই-মেল মারফত অভিযোগ করেছেন। থানা, বিডিও, মহকুমা শাসক, পূর্তদপ্তর সর্বত্র অভিযোগ জানান। তৃণমূল পরিচালিত চিলাডাঙ্গি পঞ্চায়েত অবশ্য বিধায়কের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিমানবাবু বলেন, চিলাডাঙ্গি পঞ্চায়েত রসিদ ছাপিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পূর্তদপ্তরের রাস্তা উপর দিগরুইঘাট এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় করছে। সংশ্লিষ্ট পুরশুড়া-খানাকুল রাস্তায় যাতায়াতকারী যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে জোর করে ওই টোল আদায় করা হচ্ছে। বালি সহ নানা পণ্য পরিবহণকারী লরি থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। পূর্তদপ্তরের রাস্তা থেকে পঞ্চায়েত টোল নিতে পারে না। তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি খোকন মল্লিকের ইন্ধনে পঞ্চায়েত সেখান থেকে বেআইনিভাবে টোল আদায় করছে। এদিন প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। দ্রুত টোল নেওয়া বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন করব। তৃণমূল পরিচালিত চিলাডাঙ্গি পঞ্চায়েতের প্রধান সুষমা দেবনাথ বলেন, নিয়ম মেনে রেজুলেশন করে আমাদের পঞ্চায়েতের রাস্তা থেকেই টোল নেওয়া হচ্ছে। পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইনানুগ পদ্ধতিতে টেন্ডার করে তা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোও হয়েছে। পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রনাধীন রাস্তার যে অংশ থেকে টোল নেওয়া হয় এদিন সেখানে কোনও অনুষ্ঠান চলছিল বোধ হয়। সেইজন্য সেখান থেকে কিছুটা সরে এসে টোল আদায় হয়ে থাকতে পারে। তবে আমাদের রাস্তা থেকেই যাতে টোল নেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খোকন মল্লিক বলেন, এটি পঞ্চায়েতের বিষয়। এখানে আমার সঙ্গে কোনও সম্পর্কই নেই। রাজনৈতিকভাবে বিধায়ক আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন, তাই অযথা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।
পূর্তদপ্তরের হুগলি কনস্ট্রাকশন সাব ডিভিশন ২ এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বলেন, পূর্তদপ্তরের রাস্তায় টোল আদায় করার কোনও নিয়ম নেই। পুরশুড়ার ঘটনাটি জানা নেই। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন পুরশুড়ার বিধায়ক অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি টোল আদায়ের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেই ভিডিওর সত্যতা অবশ্য যাচাই করেনি 'বর্তমান'।