নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবারের সকালে শোকের ছায়া টলিউডে। প্রায়ত বর্ষীয়ান পরিচালক রাজা সেন। আজ সকাল প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কিছুদিন আগেই বাড়িতে পড়ে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে প্রাথমিকভাবে। সেই জন্যই তিনি ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে। রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭১ বছর। রাজা সেনের প্রয়ানে বাংলা সিনেমা ও টেলিভেশনের একটা যুগের অবসান ঘটল।
জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই বয়সজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এই জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানলেন তিনি। পরিচালকের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং শিল্পজগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে তথ্যচিত্র এবং টেলিভিশনে তাঁর কাজ তাঁকে আলাদা জায়গা করে দিয়েছিল। কর্মজীবনের শুরু থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর যোগাযোগ ছিল তাঁর। টেলিভেশনেও একাধিক ভালো কাজের মাধ্যমে দর্শকের মনে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন। সুবর্ণলতা, আদর্শ হিন্দু হোটেল, আরোগ্য নিকেতন, সম্পর্ক, তারাশঙ্করের ছোটগল্প, গল্পগুচ্ছ, বঙ্কিম সাহিত্যে নারীর মতো একাধিক কাজ দিয়েছেন তিনি। তবে বড় পর্দায় রাজা সেনের পরিচয় সামনে আসে ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া দামু দিয়ে। তাঁর এই ছবি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা শিশুচলচ্চিত্রের সম্মান পায়। দামুর পাশাপাশি আত্মীয় স্বজন, চক্রব্যূহ, দেশ, দেবীপক্ষ, তিনমূর্তি, কৃষ্ণকান্তের উইল, ল্যাবরেটরি, মায়া মৃদঙ্গ সহ একাধিক ছবি করেছেন তিনি। রাজা সেনের প্রয়ানে শোকস্তব্ধ সিনেমা জগৎ।