কৃষ্ণেন্দু রায়: দীর্ঘ কেরিয়ারে তিন প্রধানের জার্সি গায়ে চাপিয়েছি। তবে সিংহভাগ কেটেছে মোহন বাগানে। তাছাড়া চার বছর ইস্ট বেঙ্গলে। আর একবার খেলি মহমেডান স্পোর্টিংয়ে। বড় দলের জার্সি গায়ে চাপালেও, আর পাঁচটা সাধারণ বাঙালি ফুটবলারের মতো আমার তথাকথিত অপ্রধান দলের হয়েই ময়দানে হাতেখড়ি। প্রথম ক্লাব টালিগঞ্জ অগ্রগামী। ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে ভালো খেলার সুবাদে এশিয়ান ইয়ুথ টুর্নামেন্টে সুযোগ পাই। এমনকী, ছোট ক্লাবে থাকাকালীন দেশের জার্সিতে মারডেকা কাপে প্রতিনিধিত্ব করি। আর সেই পারফরম্যান্সের সুবাদে তিন প্রধানের দরজা খোলে।
মনে আছে, ১৯৮০ সালে মোহন বাগানে সই করাবেন বলে মান্নাদা (শৈলেন মান্না) নিজে আমার বাড়িতে এসেছিলেন। তবে তখন বাবা রাজি হননি। বলেছিলেন, ‘এখনও ছেলের বড় ক্লাবে খেলার মতো যোগ্যতা হয়নি।’ আমি নিজেও তা উপলব্ধি করেছিলাম। সেসময় যদি আমি অল্পতেই সন্তুষ্ট হয়ে পরতাম, তাহলে আমাকে বেঞ্চে বসেই দিন কাটাতে হতো। বড় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর থেকে তথাকথিত ছোট দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর নিজেকে তার যোগ্য করে তুলেছিলাম বলেই, ইস্ট বেঙ্গলে থাকাকালীন প্রদীপদা (পিকে ব্যানার্জি) বিদেশি ফুটবলারকে বসিয়ে আমায় প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে এখনকার ফুটবলাররা অল্পতেই সন্তুষ্ট হয়ে পড়ে।
এখন কতজন বাঙালি ফুটবলার ছোট ক্লাবের হয়ে পারফর্ম করে ইস্ট বেঙ্গল-মোহন বাগানের জার্সি গায়ে চাপাচ্ছে? আসলে তাদের মধ্যে সেই খিদেটাই নেই। তাই বড় ক্লাবগুলি ভিনরাজ্যের ফুটবলারদের দিকে ঝুঁকছে। আর তার ফলেই কলকাতা লিগের এমন বেহাল অবস্থা। কে খেলছে, কোথায় খেলছে, কেউ খোঁজ রাখে না। আমাদের সময় দুটো অফিস দলের খেলাতেও মাঠ ভর্তি দর্শক থাকত। এখন মাঠে দর্শক টানার মতো ফুটবলার কোথায়! অবশ্যই কলকাতা লিগ ময়দানে ফেরা দরকার। তবে তার জন্য ফুটবলারদেরও মধ্যেও সেই তাগিদটা থাকতে হবে। শুধুমাত্র বাঙালি ফুটবলার নেই বলে চিৎকার করলে চলবে না। তাহলে ফের জৌলুস ফিরবে কলকাতা লিগে। মনে রাখতে হবে, ঘরোয়া লিগই হল বাংলার ফুটবলের সাপ্লাই লাইন। তাই বঙ্গ ফুটবলকে বাঁচাতে হলে এই লিগকে তুলে ধরতেই হবে।