


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বুধবার ভোরে গঙ্গামাতার কাছে সংকল্প গ্রহণ ও নবদ্বীপ ধাম পরিক্রমার মধ্য দিয়ে শ্রীসজ্জনসেবক গৌড়ীয় মঠের দোল তথা গৌরপূর্ণিমা উৎসবের সূচনা হচ্ছে। গৌরাঙ্গ সেতু লাগোয়া মহিশুড়ার খড়ের মাঠ এলাকার এই মঠের উৎসব এবছর তৃতীয় বর্ষে পড়েছে। এখানে রাধাকৃষ্ণের দোলের পাশাপাশি গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাব দিবস উদ্যাপিত হয়।
এই উৎসব ঘিরে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, জার্মানি, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৩০০ বিদেশি ভক্ত এসেছেন। সেইসঙ্গে এরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দিল্লি, অসম, ত্রিপুরা, উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের নানা রাজ্য থেকে প্রচুর ভক্ত এসেছেন। এবছর নবদ্বীপ ধাম পরিক্রমায় দেশবিদেশের প্রায় ১০হাজার ভক্ত অংশ নেবেন।
আগামী ৩মার্চ মঙ্গলবার দোল উৎসব বা গৌরপূর্ণিমা। দোলের দিনই নবদ্বীপ ধামে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাব হয়েছিল। তাই নবদ্বীপে দোল উৎসবের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। বুধবার গঙ্গামাতার কাছে সংকল্প গ্রহণের পর শ্রীসজ্জনসেবক গৌড়ীয় মঠের নবদ্বীপধাম পরিক্রমা শুরু হচ্ছে। টানা ২মার্চ পর্যন্ত গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত স্থান ভক্তরা পরিক্রমা করবেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন মন্দির প্রাঙ্গণে নামকীর্তন ও ভক্তিমূলক গান চলবে। দোলের দিন সকালে যজ্ঞ হবে। সারাদিন হরিনাম সংকীর্তন ও কীর্তন চলবে। এবছর গৌরপূর্ণিমার দিন চন্দ্রগ্রহণ থাকছে। সেকারণে গ্রহণের পর সন্ধ্যা ৭টায় অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে। তারপর সবার জন্য মহাপ্রসাদের আয়োজন করা হয়েছে।
সজ্জনসেবক গৌড়ীয় মঠে রাশিয়ার ইন্দ্রমুখী দাসী, অস্ট্রেলিয়ার জয়মন্তী দাসী ও জার্মানি থেকে হরিমোহিনীরা এসেছেন। তাঁরা জানালেন, দোলের সকালে হরিকথা ভজনকীর্তনের মাধ্যমে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাবতিথি উদ্যাপন করবেন। তারপর মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখবেন।
গৌড়ীয় বেদান্ত সমিতি ট্রাস্টের যুগ্ম সম্পাদক অনুপম দাস বলেন, আমাদের ট্রাস্টের তরফে সমস্ত ভক্তকে এই উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দোলের পরের দিন সাধারণ মহোৎসবের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি হবে।