নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দীর্ঘ জ্বরে কাবু জগৎপতির শরীর সেরেছে সদ্য। তাই একদিকে হবে নবযৌবন উৎসব, অন্যদিকে বসবে মনপসন্দ ভোজের আসর। শ্রীরামপুরের মাহেশে আজ, মঙ্গলবার ৬৩০ বছরের নবযৌবন উৎসব। সোমবার বিকেল থেকেই ছিল সাজসাজ রব, ছিল ঝটিকা দর্শনের আগ্রহ। জগন্নাথ দেব মঙ্গলবার সাজবেন রাজবেশে, তাঁর অভিষেক হবে। সেসব শতাব্দীপ্রাচীন রীতি। সঙ্গে থাকবে এক অমলিন ঐহিত্য, থাকবে এক জনশ্রুতির প্রবহমান ধারা। ঐতিহ্যের ‘হাতি-পা’ লুচিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভোজ সারবেন জগৎপতি। আর থাকবে দিনভর গুটকে ও বালা সন্দেশ খাওয়ার পালা। অতীতে ওই গুটকে সন্দেশ খেতে গিয়েই নিজের হাতের বালা বন্ধক রেখেছিলেন জগন্নাথ। স্বপ্নাদেশের সেই জনশ্রুতি আজও মিঠাই ভোজের মাধ্যমে বেঁচে আছে মাহেশে।
মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী বলেন, সোমবার জ্বর ছেড়েছে জগৎপতির। তারপরে ক্ষণিকের জন্য তিনি ভক্তদের দর্শন দিয়েছেন। তাকে আমরা ঝটিকা দর্শন বলি। মঙ্গলবার বড়ো উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তরা মুখিয়ে আছেন। জগৎপতিকে রাজবেশে সাজিয়ে অভিষেক করা হবে। তিনি সদ্য সুস্থ হয়েছে তাই হবে, প্রাণপ্রতিষ্ঠা। সঙ্গে থাকবে স্বপ্নাদেশে পাওয়া রীতি অনুসরণ করে গুটকে ও বালা সন্দেশের ভোগ। আর ‘হাতি-পা’ লুচিতে সেবা নেবেন জগন্নাথ। এদিকে, সোমবারই রাজ্য সরকারের তরফে রথযাত্রার জন্য অনুদান পেয়েছে হুগলির তিনটি রথ আয়োজক কমিটি। গুপ্তিপাড়া ও চন্দননগরের সঙ্গে অনুদান পেয়েছে মাহেশও।
মাহেশে রথের আগের দুটি বড়ো উৎসব, একটি স্নানযাত্রা ও অন্যটি নবযৌবন। দুটি পরস্পরের সঙ্গে শুধু রীতিতে নয়, জনশ্রুতি ও স্বপ্নাদেশেও জুড়ে আছে। জনশ্রুতি, মাহেশ মন্দিরের প্রাচীন যুগের সেবায়েত কমলকর পিপিলাইকে একদা স্বপ্নাদেশে দিয়েছিলেন জগন্নাথ। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর খুব মিষ্টি খেতে ইচ্ছে হয়েছিল। তাই হাতের বালা বন্ধক রেখে এক মোদকের (মিষ্টি ব্যবসায়ী) কাছে তিনি মিষ্টি খেয়েছেন। তখন রাত। দুপুরের কমলকর দেখেছিলেন, জগন্নাথের হাতের বালা নেই। পরদিনই তিনি সেই মোদকের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। শেষপর্যন্ত চার আনা দিয়ে সেই বালা তিনি ফিরিয়ে আনেন মন্দিরে। সেদিন মোদকের গুটকে সন্দেশ পেটপুরে খেয়েছিলেন বালবেশী জগন্নাথ। সেই ইস্তক নবযৌবনে জগন্নাথকে গুটকে ও বালাসন্দেশ (হাতের বালার আকারের গোল সন্দেশ) খাওয়াতে হুড়োহুড়ি পড়ে মাহেশে। আজ মঙ্গলবার দিনভর গুটকে ও বালা সন্দেশ খাবেন জগন্নাথ।
এনিয়ে ভক্তদের মতো ব্যবসায়ী মহলেও প্রস্তুতি তুঙ্গে। আরও এক ঐতিহ্যবাহী ভোজের স্বাদ নেবেন জগৎপতি। সেটি, ‘হাতি-পা’ লুচি। সেটি বাঙালির ঘরের চিরাচরিত লুচিই কিন্তু আকারে বিরাট। অনেকটা হাতির পায়ের তলার আকারের মতো গোল ও বৃহৎ। তাই ‘হাতি-পা’ নাম হয়েছে। ৬৩০ বছরের সেই ঐতিহ্যই মঙ্গলবার জগৎপতির নবযৌবনকে উৎসবকে ঘিরে ফিরে দেখা যাবে। ফাইল চিত্র