Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাত্র ১৩৯ নাম জুড়ে আজ প্রথম দফা, ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ বাংলার ৩৮ লক্ষ, নিষ্পত্তি ৬৫০, বাদ ৫১১ জন, ‘দক্ষতা? নাকি স্রেফ গেরুয়া চিত্রনাট্য?’

আজ, বৃহস্পতিবার বহু প্রতীক্ষিত প্রথম দফার নির্বাচন! ১৫২ আসনে মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্যপরীক্ষা। আর সেইসঙ্গে কমিশনেরও।

মাত্র ১৩৯ নাম জুড়ে আজ প্রথম দফা, ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ বাংলার ৩৮ লক্ষ, নিষ্পত্তি ৬৫০, বাদ ৫১১ জন, ‘দক্ষতা? নাকি স্রেফ গেরুয়া চিত্রনাট্য?’
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, বৃহস্পতিবার বহু প্রতীক্ষিত প্রথম দফার নির্বাচন! ১৫২ আসনে মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্যপরীক্ষা। আর সেইসঙ্গে কমিশনেরও। গত কয়েক মাস ধরে ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের নামে লাগাতার সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি, বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক এজেন্ডা পালনের উদ্দেশ্যে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার নালিশ। আজ ভোটদানের জন্য নাম নথিভুক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১ জনের। অথচ, সংখ্যাটা আরও বেশ কয়েক লক্ষ বেশি হওয়ারই কথা ছিল। সুপ্রিম কোর্টই সেই উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রায় ৩৮ লক্ষ ‘বৈধ’ ভোটার আবেদন করেছিলেন শীর্ষ আদালতের গড়ে দেওয়া ট্রাইবুনালে। কিন্তু তার জন্য যে পরিকাঠামো প্রয়োজন, সেটাই পাননি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। কমিশনের হাতে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা। তারপরও ট্রাইবুনালকে দিনের পর দিন হাতড়ে বেড়াতে হয়েছে সমাধানসূত্র। ফল? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৬৫০ জনের আবেদন। বাদ গিয়েছেন ৫১১ জন। নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাত্র ১৩৯ জনের। তাই হাতেগোনা এই সংখ্যা নিয়েই প্রথম পর্বের ভোটে যাচ্ছে বাংলা।

Advertisement

‘ডিলে ট্যাকটিক্স’। এই একটি শব্দেই কমিশনের এই ‘দক্ষতা’কে ব্যাখ্যা করছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ সাফ বলেছেন, ‘বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কিন্তু গোটা আয়োজন তো কমিশনের। তারাই যদি পরিকাঠামো না দেয়, তথ্য হাতে তুলে না দেয়, এই ফলই হবে। পুরোটাই গেরুয়া চিত্রনাট্য। নিয়মের মধ্যে থেকে নাম বাদ দিতে পারেনি। তাই এভাবে কলকাঠি নেড়েছে।’ বিচারাধীন ভোটারদের নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশের পরবর্তী পর্যায়ক্রম দেখলেই সবটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তৃণমূলের। প্রথমে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নথি নিষ্পিত্তির জন্য বিচারকদের জন্য লগ ইন আইডি তৈরিতে বিস্তর সময় লেগে যায়। পরবর্তীতে শীর্ষ আদালত ট্রাইবুনাল গঠন করতে বললেও লেগে যায় ঢের সময়। এমনকী ট্রাইবুনাল গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর পরিকাঠামো তৈরির নামে কেটে যায় ১৫ দিন। সবটা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তালিকার বাইরে রাখা যায়। এটাই দাবি তৃণমূলের। যদিও সিইও মনোজ আগরওয়ালের দাবি, ট্রাইবুনালের কাজে তাঁরা নাক গলাচ্ছেন না। কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কেন মাত্র ৬৫৭টি মামলার নিষ্পত্তি হল? তার মধ্যে ১৩৯ জনকে ছাড় এবং আটজনের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের নাম কি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল? কমিশন সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
আর এই পরিস্থিতিতেই আজ চূড়ান্ত নিরাপত্তায় প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্যে। সাঁজোয়া গাড়ি থেকে ড্রোন, হেলিকপ্টার, সব বুথে ওয়েব কাস্টিং। মোতায়েন হচ্ছে আড়াই লক্ষের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী। সকাল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে মকপোল। তারপর সকাল ৭টা থেকে ভোটপর্ব। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রতি মুহূর্তের আপডেট থাকবে কমিশনের কাছে। কোথাও কোনো বেচাল দেখলে আগে থেকেই সেই বুথে পুনর্নির্বাচন—ইঙ্গিত দিয়েই রেখেছে কমিশন। 
এদিকে, সাইলেন্স পিরিয়ড পেরিয়ে গেলেও কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনে। এর সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই প্রার্থীর প্রার্থীপদ বাতিল হতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ