আজ কালীপুজো,  আলোর রোশনাই শহরজুড়ে, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠে ভক্তের ঢল
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বীরভূম ও বরানগর: নীল আকাশ। ঝকঝকে রোদ। বাতাসে হালকা হিমের পরশ। দূর থেকে ভেসে আসছে পান্নালাল ভট্টাচার্যের—মা গো আনন্দময়ী…! আজ কালীপুজো। তার আগের দিন, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই আলোর বন্যায় ভাসছে পথঘাট। অলিগলি থেকে রাজপথ, কলোনির টালির ছাউনি থেকে অভিজাত আবাসনের ব্যালকনি ঝলমল করছে দীপাবলির আলোকসজ্জায়। দুপুরে বাঙালির পাতে ছিল চিরাচরিত চোদ্দ শাক। সন্ধ্যায় গৃহস্থের ঘরের জানালায় জ্বলে ওঠে চোদ্দ প্রদীপ। আতশবাজি, আলোর রোশনাইয়ে শক্তির আরাধনায় মেতে উঠতে পুরোপুরি প্রস্তুত বাঙালি। আর যথারীতি এদিন থেকেই কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠে ভক্তদের ঢল নেমেছে। 

Advertisement

দুর্গাপুজোয় চোরবাগানের ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। তাই প্রশাসন সদাতত্পর। কালীঘাট মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। মন্দিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ। মূল গেট ছাড়াও অন্যান্য দিকে পুলিশের কিয়স্ক বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশও নজরদারি চালাচ্ছে। রবিবার ভোররাত ৩টে থেকে সোমবার ভোররাত ৩টে পর্যন্ত টানা মন্দির খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সেই সময় মায়ের কাছে পুজো দেওয়া যাবে। তাছাড়া, কালীঘাট মন্দিরে কালীপুজোর দিন লক্ষ্মীপুজোও হয়। তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ভক্তদের। কালীঘাটের মতোই টালিগঞ্জের করুণাময়ী কালীমন্দির, লেক কালীবাড়িতে মাতৃ আরাধনার প্রস্তুতি তুঙ্গে।
মায়াবী আলোর মালায় সেজে উঠেছে কালীক্ষেত্র দক্ষিণেশ্বর। কালীপুজোয় লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগমে জনারণ্যের রূপ নেবে মা ভবতারিণীর অঙ্গন। শনিবার মধ্যরাত থেকেই ভক্তরা মন্দিরের দু’টি প্রবেশপথে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ৫টায় মন্দির খুললেই মায়ের দর্শন পাবেন তাঁরা। তার জন্যই রাত জেগে লাইনে দাঁড়ানো। মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট তিথি মেনে মায়ের পুজো হবে। রীতি মেনে রাতে গঙ্গায় জোয়ার এলে হবে ঘটোত্তোলন। সেই জল দিয়ে মাকে স্নান করানোর পর শুরু হবে বিশেষ পুজোপাঠ। মা সাজবেন বিশেষ বেনারসি, কয়েকশো ভরির সোনা ও হীরের গয়নার রাজবেশে। সাদা ভাত, ঘি ভাত, পাঁচরকম ভাজা, তরকারি, মাছ, চাটনি, খিচুড়ি, পায়েস, পাঁচরকম মিষ্টি সহযোগে ভোগ নিবেদন করা হবে। ভিড় সামাল দিতে ইতিমধ্যে পুলিশের প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে। লঞ্চের মাধ্যমে গঙ্গাবক্ষে নজরদারি চালানো হবে। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি ও সম্পাদক কুশল চৌধুরী বলেন, ‘আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে মায়ের মন্দির। ১৭২ বছরের নিয়ম ও রীতি মেনেই মায়ের পুজো হবে।’ বীরভূমের শক্তিক্ষেত্র তারাপীঠও প্রস্তুত। তারাপীঠে মা সারাবছরই বিভিন্ন রূপে পূজিতা হন। দীপান্বিতা অমবস্যায় মায়ের বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। তারাপীঠ থেকে চার কিলোমিটার দূরে রয়েছে দেখুরিয়া এবং উদয়পুরের কালী মন্দির। কথিত আছে, সাধক বামাক্ষ্যাপা নিজের বাড়ির পুজো শেষ করে এই দুই গ্রামে যেতেন। সেই প্রথা মেনে তারাপীঠের সেবায়েতরা কালীপুজোর পরের দিন সেখানে হাজির হন। তারাপীঠ থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে রয়েছে তারামায়ের বোন মৌলিক্ষা। এখানে ঝাড়খণ্ড এবং বাংলার অজস্র ভক্ত ভিড় করেন। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম হবে না। সব মিলিয়ে গোটা রাজ্যই সাড়ম্বরে শ্যামামায়ের আরাধনার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে শনিবারই।