সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজ, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। স্বরূপগঞ্জ, মায়াপুর, হুলোর ঘাট থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা যাতে ভাগীরথী ও জলঙ্গি নদী পার হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মায়াপুর-নবদ্বীপের মধ্যে পারাপারের জন্য অতিরিক্ত একটি বড় নৌকা ও লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে, ভাগীরথীর পূর্বপাড়ের স্বরূপগঞ্জ ঘাট দিয়ে বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী নদী পার হয়ে নবদ্বীপের বিভিন্ন স্কুলে পরীক্ষা দিতে যায়। তাদের কথা ভেবে স্বরূপগঞ্জ-নবদ্বীপ ফেরিঘাটের মধ্যে দু’টি অতিরিক্ত বড় নৌকা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, মায়াপুর ঠাকুর ভক্তিবিনোদ ইনস্টিটিউট ও বামুনপুকুর হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা দিতে যেতে হবে স্বরূপগঞ্জ ভাগীরথী বিদ্যাপীঠে(উঃমাঃ)। ওই দু’টি স্কুলের পরীক্ষার্থীদের জলঙ্গি নদী পার হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হবে। সেকারণে কর্তৃপক্ষ মায়াপুরের হুলোর ঘাট ও স্বরূপগঞ্জ রেলবাজার ফেরিঘাটের মধ্যে অতিরিক্ত নৌকা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, জরুরি পরিস্থিতিতে আলাদা নৌকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতিটি ঘাটেই নিরাপত্তার জন্য ফেরিঘাটের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক থাকছে।
পরীক্ষার সময় নবদ্বীপ শহরে যাতে যানজট না হয়, পুরসভার তরফে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। এমনকি, শহরের বিভিন্ন মোড়ে পুরসভার স্বেচ্ছাসেবকরা বিশেষ নজরদারি চালাবেন বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা। তিনি বলেন, শহরের টোটোচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার সময় এবং পরীক্ষার শেষে রাস্তায় কোনও রকম যানজট করা যাবে না। ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। যাতে নদী পারাপারের ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের কোনও সমস্যা না হয়। কাউন্সিলাররাও এবিষয়ে নজর রাখবেন। এছাড়া, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামনে হেলথ সেন্টারও থাকবে।
নবদ্বীপ ফেরিঘাট জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির সভাপতি শশাঙ্ক হালদার বলেন, কোনও পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করে ফেললে, সেক্ষেত্রে সেই একজনকে নিয়েই নৌকা ছাড়া হবে। সেজন্য কোনও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না। এমনিতে ছাত্রছাত্রীদের কাছে নৌকা ভাড়া বাবদ এক টাকা নেওয়া হয়। নবদ্বীপ-মায়াপুর লঞ্চের ক্ষেত্রে দু’টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। পাশাপাশি, মাইকেও ঘোষণা করা হচ্ছে। অনেক সময় কুয়াশার জেরে নদীর কূলকিনারা দেখতে না পাওয়ায় নৌকা ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। সেইসময় স্বরূপগঞ্জের ছাত্রছাত্রীদের গৌরাঙ্গ সেতু হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে যেতে হবে। আবার, কুয়াশার কারণে মায়াপুর থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হলে, তাদের হুলোরঘাট হয়ে স্বরূপগঞ্জ রেলবাজার ঘাটে পৌঁছে দেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে শুরু করে শহরে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি টহলদারি থাকবে।
উল্লেখ্য, এবছর নবদ্বীপ শহর ও ব্লক মিলিয়ে রেগুলার ও সিসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ২৩৭৭ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১১৪০। ছাত্রীর সংখ্যা ১২৩৭। শহর ও ব্লক মিলিয়ে মোট সাতটি পরীক্ষা কেন্দ্র করা হয়েছে।