সংবাদদাতা, বেলদা: টানা তিনটি শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়াশূন্য স্কুল। বসে বসেই বেতন পাচ্ছেন দুই শিক্ষিকা ও দুই শিক্ষাকর্মী। সারাদিন স্কুলে মোবাইল নিয়ে বসে থেকে বা গল্প করে দিন পার করতে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ছেন তাঁরা। বারবার দপ্তরকে জানিয়েও মিলছে না কোনও সুরাহা। প্রশাসনের উদাসীনতায় বসে বসে মাইনে নিতে হচ্ছে দাঁতনের বামনদা শ্রীশ্রী মা বালিকা বিদ্যানিকেতন জুনিয়র গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের। তাঁরা চাইছেন, হয় ছাত্রী ভর্তির ব্যবস্থা করা হোক। নতুবা এই স্কুলকে অন্য স্কুলের সঙ্গে যুক্ত করা হোক। ছাত্রী ভর্তি করতে নানাভাবে চেষ্টা করেছেন স্কুলের শিক্ষিকারা। তাতে সাহায্য করেছিল স্কুলশিক্ষা দপ্তরও। পঞ্চায়েত প্রধান থেকে গ্রামবাসীদের নিয়ে বৈঠকও করা হয়। গ্রামবাসীরা ছাত্রী ভর্তি করাবেন বলে গতবছর আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছরে সকলেই নিজেদের মেয়েদের পাশের মালযমুনা কালীপ্রসন্ন স্মৃতি বিদ্যাপীঠে ভর্তি করিয়েছেন। ফের দুশ্চিন্তায় বামনদা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকারা।
Advertisement
স্কুলে ক্লাসরুম, ব্ল্যাকবোর্ড, চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ সবকিছুই রয়েছে। দু’জন শিক্ষিকা ও দু’জন শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। নেই শুধু সেই পড়ুয়া। আগের মতো পড়ুয়াদের ভিড় দেখা যায় না। ফাঁকা ক্লাসঘর। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে দাঁতনের বামনদা গ্রামে এই জুনিয়র গার্লস স্কুল চালু হয়েছিল। তখন এলাকার একমাত্র গার্লস স্কুল হিসেবে পরিচিত ছিল স্কুলটি। আশপাশের প্রায় দশটি গ্রাম থেকে মেয়েরা এসে পড়ত। এখন ছাত্রীদের আর এই স্কুলে ভর্তি করছেন না অভিভাবকরা। গত কয়েক বছর ধরে এই স্কুলে বাংলা ও ইংরেজির দু’জন শিক্ষিকা ছাড়া আর কোনও নিয়োগ হয়নি। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আশপাশে বড় স্কুল রয়েছে। ফলে এখানে আমরা মেয়েদের ভর্তি করিনি। ওই স্কুলে শিক্ষিকাও কম। ফলে ভালো পড়াশোনা হবে না।
আর ছাত্রী ভর্তির আশা করেন না স্কুলের শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা। তাঁরা চান, দ্রুত অন্য স্কুলে তাঁদের বদলি করা হোক। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক যেন সেব্যাপারে উদ্যোগী হন। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ জানান, বহু স্কুলেই পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই। সেসব স্কুলে বদলি করা হোক। আক্ষেপের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মধুমিতা জানা বলেন, অভিভাবকরা যদি মেয়েদের ভর্তি না করেন আমরা কী করব? আমাদেরও কি না পড়িয়ে বসে থাকতে ভালো লাগে? আমরাও চাই শিক্ষাদপ্তর কোনও একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একই কথা স্কুলের গ্রুপ-সি কর্মী সুবর্ণ দাসের। তিনি বলেন, আমার বাড়ি উত্তর ২৪পরগনায়। এত দূর যাতায়াত করি। ছাত্রী না থাকায় ভালো লাগে না। যে স্কুলে ছাত্রছাত্রী রয়েছে সেখানে বদলি করলে আমিও খুশি হব। আমার জেলার কোনও স্কুলে যেন পাঠানো হয়। এব্যাপারে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্কুল পরিদর্শক(সেকেন্ডারি) স্বপন সামন্ত বলেন, স্কুলটিকে অন্য স্কুলের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য রাজ্যকে লিখে পাঠিয়েছি। এখনও কোনও নির্দেশ না মেলায় কিছু করা যায়নি। ফের রাজ্যকে জানাব।
আর ছাত্রী ভর্তির আশা করেন না স্কুলের শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা। তাঁরা চান, দ্রুত অন্য স্কুলে তাঁদের বদলি করা হোক। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক যেন সেব্যাপারে উদ্যোগী হন। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ জানান, বহু স্কুলেই পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই। সেসব স্কুলে বদলি করা হোক। আক্ষেপের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মধুমিতা জানা বলেন, অভিভাবকরা যদি মেয়েদের ভর্তি না করেন আমরা কী করব? আমাদেরও কি না পড়িয়ে বসে থাকতে ভালো লাগে? আমরাও চাই শিক্ষাদপ্তর কোনও একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একই কথা স্কুলের গ্রুপ-সি কর্মী সুবর্ণ দাসের। তিনি বলেন, আমার বাড়ি উত্তর ২৪পরগনায়। এত দূর যাতায়াত করি। ছাত্রী না থাকায় ভালো লাগে না। যে স্কুলে ছাত্রছাত্রী রয়েছে সেখানে বদলি করলে আমিও খুশি হব। আমার জেলার কোনও স্কুলে যেন পাঠানো হয়। এব্যাপারে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্কুল পরিদর্শক(সেকেন্ডারি) স্বপন সামন্ত বলেন, স্কুলটিকে অন্য স্কুলের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য রাজ্যকে লিখে পাঠিয়েছি। এখনও কোনও নির্দেশ না মেলায় কিছু করা যায়নি। ফের রাজ্যকে জানাব।



