Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিনশো বছরের প্রাচীন রীতি, কালীকে সঙ্গে নিয়ে ভেলায় ঘোরেন হরগৌরী

তিনশো বছরের প্রাচীন রীতি, কালীকে সঙ্গে নিয়ে ভেলায় ঘোরেন হরগৌরী
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মানকর: ভাইফোঁটার দিন বিকেলে বুদবুদের কোটায় ‘ভেলা ভাসান’ দেখতে কয়েকহাজার মানুষ ভিড় জমালেন। কালীপুজোর সময় কোটার তাঁতিপা‌ড়া, চণ্ডীপুর, হাটতলা প্রভৃতি এলাকায় হরগৌরী পুজোর রীতি রয়েছে। এছাড়া, লালগঞ্জে শিবপুজো হয়। এখানে হরগৌরীর বদলে শিবের সঙ্গে নন্দী-ভৃঙ্গি থাকেন। গ্রামে কালীপুজোও হয়। ভাইফোঁটার দিন বিকেলে এসমস্ত প্রতিমা সায়রে আনা হয়। সেখানেই ভেলা ভাসানো হয়। প্রায় ৩০০বছরের প্রাচীন এই উৎসব ঘিরে কোটায় মেলা বসে।
Advertisement
এলাকার বাসিন্দা বাসুদেব আঁকুড়ে বলেন, দেবতার স্বপ্নাদেশ পেয়ে ঘরামী ঠাকুরের বিসর্জন প্রথম এভাবে হয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে এটি উৎসবের রূপ নেয়। ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে এই ভেলা ভাসান চলছে। এলাকায় দুর্গাপুজো হলেও মানুষ কালীপুজোর এই কার্নিভালের জন্য আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করেন। পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবের পরিবেশ দেখা যায়। আগে ভেলা ভাসানে হরগৌরী ও কালী সহ ১২-১৩টি প্রতিমা আসত। এখন নানা কারণে সেই সংখ্যা কমেছে।
ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় দুপুর তিনটের সময় বিভিন্ন পুজো আয়োজকরা ঠাকুর নিয়ে সায়রে চলে আসেন। ভেলায় চাপিয়ে হরগৌরীদের সারা পুকুর ঘোরানো হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই উৎসব চলে। আগে মহাকালকে মাটির হাঁড়িতে চাপিয়ে ভেলা ভাসানো হতো। এখন স্টিলের হাঁড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। চৌকো আকারের ভেলায় সবমিলিয়ে ১২০টি হাঁড়ি থাকে। ১০টি করে হাঁড়ির লাইন থাকে। তার উপর প্রতিমা বসানো হয়। পাঁচজন বাজনাদার ও পুজো উদ্যাক্তাদের কয়েকজন ভেলার উপরে বসেন। তারপর ভাসান শুরু হয়। তবে সব প্রতিমার ক্ষেত্রেই হাঁড়ি ব্যবহার করা হয় না। অনেকে কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করেন। বিসর্জনের পর আতসবাজি পোড়ানো হয়। চারদিন ধরে মেলা চলে।
আয়োজক ভেলাভাসা মেলা কমিটি জানিয়েছে, চারদিনের মেলায় কবিগান, যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এই প্রাচীন উৎসবে কয়েকহাজার মানুষ অংশ নেন। মানকর, বুদবুদ, পানাগড় সহ নানা এলাকা থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ মেলায় আসেন।
সম্পর্কিত সংবাদ