Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূলের রদবদল আসন্ন, ঘুম ছুটেছে গদ্দারদের 

তৃণমূলের রদবদল আসন্ন, ঘুম ছুটেছে গদ্দারদের 
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে জোর চর্চা শিল্পাঞ্চলজুড়ে। সবেচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্গাপুর। স্টিল সিটিতে এমনিতেই শাসক দলের ভরকেন্দ্রে যথেষ্ট বদল এসেছে। এবার যেভাবে শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে ‘গদ্দার’দের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার বিধান আসছে তাতে অনেকের রক্তচাপ বেড়েছে। বিশেষ করে যেখানে যেখানে তৃণমূল লিড পায়নি তার পিছনে বহু গদ্দারের সন্ধান পেয়েছে দল। পাশাপাশি শাসক দলের পুর এলাকার জনপ্রতিনিধিদের একাংশের প্রতি মানুষ বিরক্ত। যারও প্রভাব ভোটের ফলে পড়ছে বলে শাসক দলের বিভিন্ন সার্ভে থেকে উঠে আসছে। যার জেরে ওয়ার্ড ধরে ধরে নতুন মুখের সন্ধান করছে শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। 
Advertisement
শাসক দলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, উপনির্বাচনের পরই দুর্গাপুর পুরসভা ভোটের ঘণ্টা বাজতে পারে। যা নিয়ে জোরকদমে জমি শক্ত করতে নেমেছে শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা। পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, দুর্গাপুরে সংগঠন মজবুত করতে আমরা বাড়তি জোর দিয়েছি। এছাড়াও এলাকার নেতা জনপ্রতিনিধিদের কী ভূমিকা গত নির্বাচনগুলিতে ছিল তাও নজরে রয়েছে।  ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুর এলাকার সংগঠন মজবুত করার বিষয়ে জোর দিয়েছে। আরজি কর কাণ্ডের জেরে সেই প্রক্রিয়া কিছুটা থমকে গেলেও ফের সেই প্রক্রিয়া পুরো মাত্রায় শুরু হয়েছে। সর্বপ্রথম নজর দেওয়া হয়েছে দুর্গাপুরের দিকে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শহরের বহু ওয়ার্ডে বিজেপি লিড পেয়েছিল। ২০২৪ সালেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে এবার তৃণমূল অনেক বেশি ভোট পেলেও বিজেপির বড় প্রভাব থেকেই গিয়েছে। তারপর শাসক দলে সাংগঠনিকভাবে অনেক পরিবর্তনও এসেছে। তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী দুর্গাপুরে অফিস করে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার সপ্তাহে দু’দিন নিয়ম করে পার্টি কর্মীদের ক্লাস নিচ্ছেন। পাশাপাশি দু’টি বিশেষজ্ঞ সার্ভে টিম শহরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে শাসক দলের সংগঠনের ত্রুটির খোঁজ নিচ্ছে। সেখানেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দামোদর নদ তীরবর্তী তৃণমূল নেতাদের সেচদপ্তরের জমি দখল করে একের পর এক বাগান বাড়ি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কিছু বর্ষীয়ান প্রাক্তন কাউন্সিলার আবার নিজের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রেখে ভাই, সঙ্গীদের করে খাওয়ার রাস্তা করে দিয়েছেন। কিছু নেতা বোল্ডার কারবার বকলমে প্রমোটারিতে নাম লিখিয়েছেন। কেউ আবার সরকারি কোয়ার্টারে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়ে কাটমানি খাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এই সব দলের ক্যান্সারদের ছেটে ফেলে নতুন করে সংগঠনকে সাজাতে চাইছে তৃণমূল। সেই প্রক্রিয়ারই অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে দুর্গাপুরের মহিলা সমবায় ব্যাঙ্কের ভোট থেকে। ৬ হাজার ৬৭৮ মহিলা ভোটার এই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। দীর্ঘদিন ধরে বামেদের দখলে থাকা এই সমবায় ছিনিয়ে নেওয়াই এখন পাখির চোখ তৃণমূলের। 
সম্পর্কিত সংবাদ