Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানকে মারধরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানকে মারধরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বেধড়ক মারধর করে তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানেরমাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ধানতলায়। এই ঘটনায় ধানতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত বুধবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে ধানতলা থানা এলাকার বঙ্কিমনগর কেশাইপুরে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তৃণমূল নেতা বর্তমানে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে ধানতলা থানা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, রাসের মাইক বাঁধাকে কেন্দ্র করে বচসা বাধে, তার জেরেই এই মারধর। আক্রান্ত তৃণমূল নেতার নাম জয়প্রকাশ লস্কর। তিনি হিজুলির রঘুনাথপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বঙ্কিমনগর কেশাইপুরের বাসিন্দা। এর আগে ওই পঞ্চায়েতেরই প্রধান ছিলেন তিনি। তবে ২০২৩ সালে, অর্থাৎ শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে রঘুনাথপুর ২ পঞ্চায়েতের দখল নেয় বিজেপি। স্থানীয় একটি মাঠে রাসের মেলা এবং রাস উৎসবের অন্যতম উদ্যোক্তা জয়প্রকাশ। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সেই রাস আয়োজন বানচাল করার চেষ্টায় রয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে, তিনি এই রাসের আয়োজন করুন, তা চায় না রঘুনাথপুর ২ পঞ্চায়েতের সদ্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত দল। গত বুধবার রাতে জয়প্রকাশ যখন ছেলের সঙ্গে ফিরছিলেন, তখন বঙ্কিমনগর হল্ট স্টেশন সংলগ্ন কেশাইপুর বাজারে আচমকা তাঁকে ঘেরাও করে বিজেপির স্থানীয় কিছু কর্মী সমর্থক। জয়প্রকাশবাবু বলেন, আশেপাশেই দোকান রয়েছে ওই সমস্ত বিজেপি কর্মীদের। পথ আটকে তাঁরা হুমকি দেয় আমাকে। কথা কাটাকাটির মধ্যেই আচমকা আমার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। তাতে আমার মাথা ফেটে যায়। রাস্তায় ফেলেও মারধর করা হয়, সঙ্গে অকথ্য গালাগাল। আমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসাহয়। একাধিক সেলাই পড়েছে মাথায়। পরে আমি বিষয়টি নিয়ে ধানতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এদিকে, জয়প্রকাশ লস্করের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। স্থানীয় নেতা তথা নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সদস্য প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। উনি আমার নেতৃত্বে মারধর করা হয়েছে বলছেন বটে, কিন্তু তখন আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম না। তাছাড়া উনি থানায় যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাতে আমার নামই নেই। বাজারে একটি মাইক লাগানো হয়েছিল। কয়েকজন দোকানদার সেই মাইক লাগানোর প্রতিবাদ করেন। তখন জয়প্রকাশ প্রথমে গিয়ে ওই সমস্ত দোকানদারদের উপরে হম্বিতম্বি করে। এই গন্ডগোলের মাঝে স্থানীয়রাই গণপ্রহার দিয়ে দিয়েছে তৃণমূলের ওই নেতাকে। যারা মারধর করেছে তারা সকলেই সাধারণ মানুষ। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। বঙ্কিমনগর রেলস্টেশন বাজারেই দোকান রয়েছে সঞ্জয় শীলের। তিনি অন্যতম অভিযুক্ত। আক্রান্ত তৃণমূল নেতা তাঁকে বিজেপি কর্মী বললেও তিনি তা অস্বীকার করেন। উল্টে তাঁর দাবি, আমার দোকানের সামনেই একটি মাইক লাগিয়েছিল। জয়প্রকাশের ছেলেকে বলেছিলাম ওই মাইক অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে। উল্টে ওই প্রাক্তন প্রধান এসে আমাকে মারধর করেন। তাই আশেপাশের কয়েকজন ওঁকে ধাক্কাধাক্কি করছিল। তখন রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় ওঁর। কেউ রড দিয়ে মারেনি। এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ