Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি, বহু পঞ্চায়েত সদস্যের নাম আবাসের খসড়া তালিকায়

তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি, বহু পঞ্চায়েত সদস্যের নাম আবাসের খসড়া তালিকায়
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চাপড়া: এ যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! আবাসের খসড়া তালিকায় আগেই নাম উঠেছিল হাতিশালা-১ পঞ্চায়েত প্রধান রূপচাঁদ শেখের স্ত্রী কাকলি শেখের। যা নিয়ে হইচই পড়ে যায়। এবার ওই একই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি, একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের লোকেদের নাম উঠেছে আবাস তালিকায়। যোগ্য উপভোক্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে পঞ্চায়েতের ‘প্রভাবশালী ভিআরপি কর্মীর পরিবারের একাধিক সদস্যকেও। বিষয়টি সামনে আসতেই চাপড়া ব্লকে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। 
Advertisement
দেখা যাচ্ছে, তাঁদের প্রত্যেকেরই পেল্লাই বাড়ি। এলাকায় প্রভাব প্রতিপত্তিও কম নয়। কারও বড় ব্যবসা, কেউ আবার বিশাল জমির মালিক। নবান্নের ‘মানদণ্ডে’ তাঁদের নাম তালিকা থেকে আগেই বাদ পড়ার কথা। কিন্তু ব্লকের কয়েক হাজার যোগ্য উপভোক্তাদের নামের ভিড়ে লুকিয়ে ছিলেন তাঁরাও। যদিও তাঁদের মধ্যে অনেকের দাবি, জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগেই তাঁরা আবেদন করেছিলেন।‌ তাই তালিকায় নাম এসেছে। অনেকে আবার যোগ্য উপভোক্তা হিসেবেই দাবি করেছেন। যদিও শোনা যাচ্ছে, হাতিশালা-১ পঞ্চায়েতে নিজেদের দাপটকে কাজে লাগিয়েই খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তে দেননি তাঁরা। ফলে দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা সমীক্ষার স্বচ্ছতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।‌
কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, ‘ব্লক প্রশাসনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আমরা সুপার চেকিং করছি। কোথাও যদি কোনও অযোগ্য উপভোক্তার নাম তালিকায় ঢুকে যায় আমরা তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেব। চাপড়া হাতিশালা-১ পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি আনারুল শেখ। এলাকার প্রভাবশালী নেতা বলেই পরিচিত। প্রকাশিত আবাসের খসড়া তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। তাঁর স্ত্রী সাগরী বিবিকেও যোগ্য উপভোক্তার শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে। অঞ্চল সভাপতি বলেন, ‘আমাদের যখন অবস্থা খারাপ ছিল তখন ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ঘর যাতে আমাকে না দেওয়া হয় তার জন্য বিডিও অফিসে আবেদন করেছি। আবেদন করার কয়েক মাস পর স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যায়।’
পঞ্চায়েতের ভিআরপি হিসেবে চাকরি করেন সাইফুল মল্লিক। তাঁর দোতলা পাকা বাড়ি রয়েছে হাতিশালা পঞ্চায়েতে। জনপ্রতিনিধি না হলেও এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত তিনি। প্রভাব খাটিয়েই নিজের মা ও দিদিমার নাম তুলছেন আবাস তালিকায়। তাঁকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি লাইন কেটে দেন। আর ফোন তোলেননি। অন্যদিকে হাতিশালা-১ পঞ্চায়েতের সদস্য নাজবুল মল্লিকের নামে ঘর এসেছে। সমীক্ষার সময় কাঁচা বাড়ি দেখিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কাঁচা বাড়ির পাশেই তাঁর বিশাল পাকা বাড়ি। পাশাপাশি তালিকায় নাম রয়েছে পঞ্চায়েত এক সদস্যার স্বামী ওয়াসকুরনি মল্লিকের। তিনি বলেন, ‘আগে আমরা তৃণমূলের কর্মী ছিলাম। তখন ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম। বর্তমানে কাকার বাড়িতে থাকি। আমার ঘরের দরকার আছে।’
সম্পর্কিত সংবাদ