সংবাদদাতা, কাঁথি: তৃণমূল সদস্যদের আনা অনাস্থায় বৃহস্পতিবার এগরা-২ পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি পরিচালিত সমস্ত স্থায়ী সমিতি ভেঙে গেল। ওই সমস্ত স্থায়ী সমিতি এবার তৃণমূলেরই দখলে আসতে চলেছে। অনাস্থা সভায় তৃণমূল সদস্যদের পাশাপাশি রাধারানি মান্না নামে বিজেপির বিক্ষুব্ধ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা উপস্থিত ছিলেন। সেইসঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকরা হাজির ছিলেন। বিজেপির আর কোনও জনপ্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পঞ্চায়েত সমিতির ন’টি স্থায়ী সমিতি রয়েছে। প্রতিটি স্থায়ী সমিতিতেই অনাস্থা আনে তৃণমূল। কোনও ভোটাভুটি ছাড়াই নির্বিঘ্নে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়। স্থায়ী সমিতি দখল নিশ্চিত হওয়ার পর জয়োল্লাস ও আবির খেলায় মেতে ওঠেন শাসকদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, এগরার বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি, তৃণমূল নেতা প্রকাশ রায়চৌধুরী সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনাস্থা সভাকে ঘিরে গণ্ডগোল সামাল দিতে কড়া পুলিসি বন্দোবস্ত ছিল। এগরা-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে ২৪টি আসন রয়েছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১২টি করে আসনে তৃণমূল ও বিজেপি জয়ী হয়। টসের মাধ্যমে বোর্ড গঠিত হয়। সভাপতির পদ পায় তৃণমূল। বিজেপি সহ-সভাপতির পদ পায়। স্থায়ী সমিতিতে ৩৯জন সদস্য রয়েছে। তার মধ্যে বিজেপির ২০জন এবং তৃণমূলের ১৯জন ছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রতিটি স্থায়ী সমিতিতে বিজেপি কর্মাধ্যক্ষরা নির্বাচিত হন।
Advertisement
এরপর লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর আসনটি বিজেপির হাতছাড়া হয়। অগ্নিমিত্রা পল হেরে যান। জিতে যান তৃণমূলের জুন মালিয়া। এর ফলে স্থায়ী সমিতিতে তৃণমূলের ২০জন ও বিজেপির ১৯জন সদস্য হয়ে যায়। এরপরই তৃণমূল অনাস্থা প্রস্তাব এনে এগরার মহকুমা শাসককে চিঠি দেয়। ১৪নভেম্বর অনাস্থা সভার জন্য দিন ঠিক করা হয়। তবে এর মাঝে বিজেপি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ ছিল, বেআইনিভাবে অনাস্থা প্রস্তাব ডাকা হয়েছে। বুধবার হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে শুনানিতে সেই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনেই অনাস্থা সভা হবে বলে জানানো হয়। অবশেষে সমস্ত স্থায়ী সমিতি বিজেপির হাতছাড়া হল।
বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক তন্ময় হাজরা বলেন, বিজেপি পরিচালিত স্থায়ী সমিতির সদস্যরা মানুষের উন্নয়ন করছিলেন। তৃণমূল কাটমানি খাওয়ার লোভে অনৈতিকভাবে সমস্ত স্থায়ী সমিতির দখল নিয়েছে। বিধায়ক তরুণবাবু বলেন, বিজেপি পরিচালিত স্থায়ী সমিতি কোনও কাজ করেনি। এবার উন্নয়নের কাজে গতি আসবে বলে মনে করছি।
বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক তন্ময় হাজরা বলেন, বিজেপি পরিচালিত স্থায়ী সমিতির সদস্যরা মানুষের উন্নয়ন করছিলেন। তৃণমূল কাটমানি খাওয়ার লোভে অনৈতিকভাবে সমস্ত স্থায়ী সমিতির দখল নিয়েছে। বিধায়ক তরুণবাবু বলেন, বিজেপি পরিচালিত স্থায়ী সমিতি কোনও কাজ করেনি। এবার উন্নয়নের কাজে গতি আসবে বলে মনে করছি।



