Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমলের এক বুথ সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়ায় গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ, ভুরকুনায় জলঘোলা

তৃণমলের এক বুথ সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়ায় গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ, ভুরকুনায় জলঘোলা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: তৃণমূলের এক বুথ সভাপতিকে হঠাৎই সরিয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হল সিউড়ি ১ ব্লকের ভুরকুনা অঞ্চলে। জানা যায়, শনিবার ওই অঞ্চলের লালমোহনপুরের ২৩০ নম্বর বুথের সভাপতি শেখ খয়রাদ ওরফে কটাকে সরিয়ে দেয় ব্লক প্রশাসন। তাঁর জায়গায় শেখ গিয়াসুদ্দিনকে বুথ সভাপতি করা হয়। খয়রাদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি কালীপুজোর উদ্বোধনে সভাধিপতি কাজল শেখের সঙ্গে থাকার কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। যদিও ব্লক নেতৃত্বের দাবি, এলাকার অশান্তি ঠেকাতে সভাপতির বদল করা হয়েছে।
Advertisement
যদিও বিদায়ী বুথ সভাপতিদের অনুগামীদের সূত্র ধরে জানা যায়, এই ঘটনার পিছনে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর ঠান্ডা লড়াই রয়েছে। খয়রাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজলের অনুগামী। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ওই বুথের সভাপতির পদে রয়েছেন। এলাকাটি সিউড়ি বিধানসভা ক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে। স্থানীয় সদাইপুর থানার অন্তর্গত একটি কালীপুজোর উদ্বোধনে কাজলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কটাও। আর ঠিক তার তিনদিন পরই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল। তিনি বলেন, গত বিধানসভায় আমার বুথ থেকে ১ হাজারের বেশি ভোটে লিড দিয়েছি। এই লোকসভাতেও অঞ্চলের মধ্যে সবথেকে বেশি লিড আমার। ৮৯১ ভোটের লিড দিয়েছি দলকে। সংগঠনটা ভালোভাবে ধরে রেখেছি এতদিন ধরে। 
কিন্তু বিধায়কের সঙ্গে মন কষাকষি লেগেই থাকে। এখানে একটি কালীপুজোতে সভাধিপতি এসেছিলেন। সেখানে ছিলাম। গতবার বিধায়ক, সভাধিপতি দু’জনেই এসেছিলেন। কিন্তু এবার বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী আর এলেন না। তারপর দেখলাম আমাকে না জানিয়েই ব্লক সভাপতি নতুন একজনকে বুথ সভাপতি ঘোষণা করে দিলেন। আমার ঠিক কী সাংগঠনিক দুর্বলতা, তা আজও বুঝলাম না। এত ভালো ভোট করালাম, তারপরও আমায় সরিয়ে দেওয়া হল। দলের উচ্চস্তরের নেতারা বিষয়টি দেখুক। 
এই প্রসঙ্গে সভাধিপতি কাজল শেখ বলেন, বিষয়টি ফোনে শুনলাম। ওই এলাকা দলীয়ভাবে ওখানকার বিধায়ক দেখেন। নিশ্চয় তাঁর নির্দেশেই সরানো হয়েছে। বিতর্ক না বাড়িয়ে বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে মিটমাট করে নেওয়াই উচিত বলেই মনে করি। এই প্রসঙ্গে বিধায়ক অবশ্য কিছু বলতে রাজি হননি। 
তবে ব্লক সভাপতি রুপু লালা বলেন, ওই বুথটি থেকে সত্যিই আমাদের ভালো লিড আসে। কিন্তু মারামারি, অশান্তি লেগেই থাকে। এতে সংগঠন খারাপ হচ্ছিল। তাই অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হল। এর সঙ্গে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা এসব কোনও কিছুই নেই।
তবে এই বুথ সভাপতির বদল অন্য কোনও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করে কি না, সেটাই দেখার। এই প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, এখন চারিদিকেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। ওদের মারামারি চলবেই।
সম্পর্কিত সংবাদ