Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর গোলমালের পর নিস্তব্ধ ঘাটাল শহর, উঠছে প্রশ্ন

তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর গোলমালের পর নিস্তব্ধ ঘাটাল শহর, উঠছে প্রশ্ন
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: রবিবার অরবিন্দ স্টেডিয়ামে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লাঠালাঠির পর নিস্তব্ধ ঘাটাল শহর। হতাশায় ভুগতে শুরু করেছেন তৃণমূলের একশ্রেণির কর্মী ও নেতা। দলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা কমিটির এক নেতা জানান, ঘাটালে নিজেদের মধ্যে এমন মারপিট এর আগে দেখা যায়নি। তাও আবার সংসদ সদস্য দীপক অধিকারীর (দেব) সামনে। জখমরা এখনও হাসপাতালে ভর্তি। আমাদের অত্যন্ত খারাপ লাগছে। যেখানেই যাচ্ছি সাধারণ মানুষের কাছে কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে। একটি অরাজনৈতিক মেলাকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে রক্তারক্তি হওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মনোবল ভেঙেছে। 
Advertisement
এদিকে ওই ঘটনার পরই পুলিস উভয়পক্ষের ১৪ জনকে আটক করেছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘাটাল মহকুমা পুলিস আধিকারিক অনিমেষ সিংহরায় বলেন, ‘রবিবারের স্টেডিয়ামের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’ রবিবার দুপুরে ঘাটাল অরবিন্দ স্টেডিয়ামে তৃণমূলের দেব অনুগামী এবং ঘাটালের প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দোলইয়ে গোষ্ঠীর মধ্যে হিন্দি সিনেমার কায়দায় বড় বড় লাঠি নিয়ে মারপিট হয়েছিল। দুই গোষ্ঠীর মারপিটের কারণ, শিশু মেলার কর্তৃত্ব দখল। মাত্র ১০ দিনের প্রায় এক কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার লিজের মেলা পরিচালনা করার জন্য এত গণ্ডগোল দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও দলের কর্মীরা। তাঁদের মনে প্রশ্নও উঠেছে। স্টেডিয়ামের ক্লাব হাউসে মেলার মিটিং হওয়ার কথা ছিল, সেখানে উভয়পক্ষের হাতে বাঁশের বড় বড় লাঠি গেল কীভাবে? নিশ্চয়ই আগে থেকে মজুত ছিল। মিটিংয়ে হাতে গোনা কয়েকজন ডাক পেয়েছিলেন। তাহলে কোনও এক গোষ্ঠী সকাল থেকে জমায়েত করে কয়েক শ’ মানুষের জন্য মাংস-ভাত রান্নার আয়োজন করেছিল কেন? যেখানে পাড়ার মনসা পুজো হলেও পুলিস মোতায়েন থাকে, সেখানে পুলিস দেব-শঙ্কর গোষ্ঠীর ‘রসায়ন’ জানা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা করেনি কেন? সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেবও পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য পুলিস প্রশাসন আগে থেকে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কেন বুঝতে পারলাম না। সমস্ত বিষয়টি আমি যাঁকে জানানোর জানিয়েছি।’
বিগত তিন দশকের মধ্যে ঘাটালে তৃণমূল-সিপিএম, তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এইরকম ভয়ঙ্কর মারপিট ঘাটালের বাসিন্দারা এর আগে দেখেননি। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে স্টেডিয়াম যখন রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল, তখন চারদিকের বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে মানুষ অবাক হয়ে দেখছিল। দলের নেতারা বলেন, ‘এর ফলে আমরা অনেকটা ব্যাকফুটে চলে এলাম। রাজ্যজুড়ে ঘাটালের বদনাম হল। দলের কর্মী এবং বহু নেতার বাইরে বেরতে লজ্জা হচ্ছে।’
রবিবারের ঘটনার পর পুলিস উভয়পক্ষের মোট ১৪ জনকে আটক করেছিল। কিন্তু কোনও পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় রবিবার রাতের দিকে সবাইকে ছেড়ে দেয়।
দেব বলেন, ‘শিশুমেলা ঘাটালের মানুষের আবেগের মেলা। তাই আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে মেলাটা করতে। কিন্তু এই ধরনের গণ্ডগোল ভালোলাগে না।’ শঙ্করবাবুও একই সুরে জানান, কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই রবিবার গণ্ডগোলের সূত্রপাত করেছিলেন। মেলাটি যে কোনও ভাবেই হোক সবাই চান। এদিকে দলের পক্ষ থেকে, সমস্ত ঘটনা রাজ্যের নেত্রীকে জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ