নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দলবদলের ২৪ ঘণ্টা পর বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে ‘নিখোঁজ’ হয়েছিলেন মুগবেড়িয়ার পঞ্চায়েত সদস্য জয়দেব বেরা। ভগবানপুর-২ ব্লকের মুগবেড়িয়া পঞ্চায়েতের খানজাদাপুর গ্রামের ওই সদস্য বুধবার সন্ধ্যায় ফের বিজেপির পতাকা ধরলেন। এদিন বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা অফিসে তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি। ঘটনার জেরে ভগবানপুর-২ ব্লকে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। মুগবেড়িয়া পঞ্চায়েত কাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
Advertisement
সোমবার মুগবেড়িয়া পঞ্চায়েতের বিজেপির দুই সদস্য জয়দেব বেরা ও কাকলি বেরা দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক, পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষ মানব পড়ুয়া প্রমুখ ওই দু’জনের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। যোগদানের পরই জয়দেবের বাড়িতে হামলার আশঙ্কা ছিল। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ পেয়ে জয়দেবের বাড়িতে সিভিক ভলান্টিয়ার দেওয়া হয়। দু’জন করে সিভিক ভলান্টিয়ার তিনটি শিফটে ডিউটি করছিলেন। মঙ্গলবার রাতেও দু’জন সিভিক মোতায়েন থাকাকালীন বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে বাড়ি থেকে বেরনোর পর আর ফেরেননি জয়দেব। ওই ঘটনা জানাজানি হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান। খবর পেয়ে ভূপতিনগর থানার পুলিসও রাতেই তাঁর বাড়িতে হাজির হয়। শ্যালকের কাছে যাওয়ার পথে বিজেপির লোকজন তাঁকে হাইজ্যাক করেছিল বলে তৃণমূলের অভিযোগ। বুধবার সন্ধ্যায় কাঁথিতে সেই জয়দেবের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়া হয়।
২০২৩সালের নির্বাচনে মুগবেড়িয়া পঞ্চায়েতে ১১-১০মার্জিনে জিতে বোর্ড গঠন করে বিজেপি। সোমবার দু’জন সদস্য দলবদল করায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই বোর্ড টিকিয়ে রাখতে বিজেপি নেতৃত্ব মরিয়া হয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দলবদলের মুহূর্তে কাকলির শ্বশুরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিজেপির লোকজন ওই প্রৌঢ়কে বাইকে বসিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে চলে যায়। ভূপতিনগর থানার পুলিস সক্রিয় হওয়ায় কিছুক্ষণ পর তাঁকে বাড়ির সামনে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে জয়দেবকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। তাঁর বাড়িতে সিভিক মোতায়েন করার পরও বাড়ি থেকে নিজেদের ডেরায় সরিয়ে নিয়ে যায় বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবার তৃণমূলের পতাকা তুলে নেওয়ার পর বুধবার তাঁর হাতেই বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়া হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের ভগবানপুর-২ ব্লক সভাপতি অম্বিকেশ মান্না বলেন, জয়দেব আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। সেইসময় মাঝ রাস্তায় তাঁকে বিজেপির লোকজন হাইজ্যাক করে। জয়দেব স্বেচ্ছায় আমাদের পার্টিতে জয়েন করেছিলেন। কিন্তু, বিজেপি মুগবেড়িয়া পঞ্চায়েত খোয়ানোর ভয়ে তাঁকে জোর করে কাঁথিতে নিয়ে গিয়ে দলীয় পতাকা ধবিয়েছে। আমরা বিষয়টির উপর নজর রাখছি।২০২৩সালের নির্বাচনে মুগবেড়িয়া পঞ্চায়েতে ১১-১০মার্জিনে জিতে বোর্ড গঠন করে বিজেপি। সোমবার দু’জন সদস্য দলবদল করায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই বোর্ড টিকিয়ে রাখতে বিজেপি নেতৃত্ব মরিয়া হয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দলবদলের মুহূর্তে কাকলির শ্বশুরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিজেপির লোকজন ওই প্রৌঢ়কে বাইকে বসিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে চলে যায়। ভূপতিনগর থানার পুলিস সক্রিয় হওয়ায় কিছুক্ষণ পর তাঁকে বাড়ির সামনে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে জয়দেবকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। তাঁর বাড়িতে সিভিক মোতায়েন করার পরও বাড়ি থেকে নিজেদের ডেরায় সরিয়ে নিয়ে যায় বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবার তৃণমূলের পতাকা তুলে নেওয়ার পর বুধবার তাঁর হাতেই বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়া হয়।
ভগবানপুরের বিধায়ক বিজেপির রবীন্দ্রনাথ মাইতি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভুল বুঝিয়ে জয়দেব ও কাকলি বেরাকে তাদের ঝাণ্ডা ধরিয়েছিল। জয়দেব নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। তিনি এখন আমাদের কাছেই ফিরে এসেছেন। লোকসভা ভোটেও জয়দেবের বুথে আমরা আড়াইশোর বেশি ভোটে লিড পেয়েছি। মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে বুঝতে পেরে জয়দেব আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন। তিনি আমাদের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকারও করেছেন।



