সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: বড় উরমা গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন বিজেপির ৮ জন সদস্য। সেদিন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে সদস্যরা বলরামপুরের বিডিও-র সঙ্গে দেখা করে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। এরপরই বলরামপুরের রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
Advertisement
স্থানীয় এবং গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, বলরামপুর ব্লকের অন্তর্গত বড় উরমা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট সদস্যের সংখ্যা ১৭ জন। তার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ৯ জন এবং বিজেপির ৮ জন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ছিল। যদিও পরে তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য পিন্টু মাঝি প্রয়াত হন। ওই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের মৃত্যুর পর বড় উরমা গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলেরই সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ জন করে। বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের দাবি, নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধী গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের এলাকাগুলিতে কোনওরকম উন্নয়নের কাজ করা হয় না। গ্রাম পঞ্চায়েতের যে কোনও কাজের বিষয়ে ওই সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না বলেও অভিযোগ। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের সব সংসদে সমপরিমাণ উন্নয়নের কাজ করার দাবিও জানান সদস্যরা। বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রাধানাথ মাহাত, লালচাঁদ মাহাত বলেন, এলাকায় উন্নয়নের জন্য বিরোধীদের কোনও গুরুত্বই দেন না প্রধান। এমনকী বিরোধী দলের এলাকাগুলিতে কাজ পর্যন্ত হয় না। অথচ তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ী সদস্যদের এলাকাগুলিতে একাধিক কাজ হচ্ছে। বলরামপুর ৪ মণ্ডলের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি আদিত্য মাহাত বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা এদিন বিডিওর কাছে প্রধান শ্যামলী মাহাতর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ওই অনাস্থার বিষয়টি যতদিন না কার্যকর হচ্ছে, সেই সময় পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের সকল সদস্য যাতে সমপরিমাণ কাজের অধিকার পান, সেই দাবিও বিডিওকে জানানো হয়েছে। এবিষয়ে বলরামপুরের বিডিও বলেন, বড়মা গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকজন সদস্য নিজেদের কিছু দাবির কথা লিখিত আকারে জানিয়েছেন। কিন্তু প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা সংক্রান্ত কোনও কাগজ আমার কাছে জমা দেননি। অনাস্থা প্রস্তাব সংক্রান্ত বিষয়টি জানি না। সব গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যই যাতে সমপরিমাণ কাজের অধিকার পান, সেই দাবি তাঁরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বড়মা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান শ্যামলী মাহাত বলেন, বিরোধী এলাকাগুলিতে কাজ না হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একবারে তো সব কাজ হবে না। ধাপে ধাপে কাজ হচ্ছে। তাছাড়া অনাস্থা প্রস্তাব সংক্রান্ত কিছু জানি না।



