Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল নেতার ঔদ্ধত্য, মারধর ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’তে ফোন সিপিএম নেতার 

তৃণমূল নেতার ঔদ্ধত্য, মারধর ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’তে ফোন সিপিএম নেতার 
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জনসংযোগের লক্ষ্যে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরুতে এই কর্মসূচি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। এবার সেই দিদিকে বলো-র উপর ভরসা রাখছেন বিরোধীরাও। একাধিকবার সমস্যার সমাধান হয়েছে। এবার আবাস যোজনার বেনিয়মের প্রতিবাদ ও মারধরের ঘটনায় সি‌পিএম কার্যালয়ে বসেই দিদিকে বলোতে ফোন করে অভিযোগ জানালেন নলহাটি ১ ব্লকের কলিঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা সিপিএমের মহম্মদ মইম শেখ। তাঁর দাবি, এর আগেও তিন-চারবার দিদিকে বলোতে ফোন করে সমস্যার সমাধান হয়েছে। এই সমস্যার ক্ষেত্রেও মানবিক মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নিরাশ করবেন না। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, দিদিকে বলো কর্মসূচি সারা বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখানে  নেতাকে ধরা, ঘুষ বা কোনওভাবেই প্রভাবিত করার জায়গা নেই। মানুষও অভিযোগ জানিয়ে ফল পাচ্ছেন। বিরোধীপক্ষও এখনও স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে যে, দিদিকে বলোতে জানালে সমাধান হচ্ছে। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত খুশির খবর। কলিঠা গ্রাম পঞ্চায়েতে বাংলার আবাস যোজনা প্রকল্পে ব্যাপক বেনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন সাধারণ মানুষ। গত ৩০ নভেম্বর পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা বিডিওকে লিখিত অভিযোগে জানান, এই পঞ্চায়েতের মধুরা গ্রামে সার্ভের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মী টাকার বিনিময়ে অনেকে অযোগ্যকে যোগ্য করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ব্লক অফিসে পঞ্চায়েতের সমস্ত প্রতিনিধিকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিডিও। মইম শেখের অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূলের সেলিম শেখ দলবল নিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করেন। যদিও উপপ্রধানের দাবি আমি নই, জনগণ মেরেছে। রাতেই উপপ্রধান সহ আটজনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মইম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিস। এমনকী বিডিওর পক্ষ থেকেও থানায় কোনও অভিযোগ হয়নি। বুধবার সেই ঘটনায় রামপুরহাট কার্যালয়ে মইমকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য সঞ্জীব বর্মন। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আগামী শুক্রবার বিডিও এবং থানা অভিযান করা হবে। এরপরই সিপিএম কার্যালয়ে বসেই দিদিকে বলো-তে ফোন করেন মইম। তিনি সমস্ত ঘটনা বলার পাশাপাশি একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে গ্রামের দুঃস্থ মানুষগুলোর জীর্ণ দশা চাক্ষুষ করা জন্য আবেদন জানান। ফোনের ওপার থেকে তাঁর অভিযোগ রেজিস্ট্রেশন হয়েছে বলে জানান। মইম বলেন, প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় দিদিকে বলো-তে ফোন করলাম। সরকারি বাড়ি যাতে গরিব মানুষরা পায়, সেটা সুনিশ্চিত করুন দিদি। তিনি বলেন, এর আগেও তিন-চারবার দিদিকে বলো-তে ফোন করে সমস্যার সমাধান হয়েছে। মানবিক মুখ্যমন্ত্রী এই সমস্যারও সমাধান করবেন বলে আশা রাখি। যদিও এই ফোন করার মধ্যে খারাপ কিছু দেখছেন না সঞ্জীববাবু। তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতা সরকারি ব্যবস্থাপনার সুযোগ গ্রহণ করেছেন মাত্র। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় কেস ও ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ