Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল কর্মীকে মিটিং সেরে ফেরার পথেই পিটিয়ে খুন

তৃণমূল কর্মীকে মিটিং সেরে ফেরার পথেই পিটিয়ে খুন
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দলের মিটিং সেরে বাইকে চেপে বাড়ি ফেরার পথে শুক্রবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কর্মীকে লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মেরে খুনের অভিযোগ উঠল। ঘটনার জেরে খয়রাশোল ব্লকের বড়রা গ্রামের গরিবপাড়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম শেখ নিয়ামুল(৩২)। শনিবার সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। মৃতের বাবা বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। যদিও গেরুয়া শিবিরের পাল্টা দাবি, শাসকদলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই খুন। শাসক শিবির মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকেই একহাত নিয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। কাঁকরতলা থানার পুলিস একজনকে আটক করেছে। 
Advertisement
এদিনই বিকেলে পুলিস ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে মাঠ থেকে বেশকিছু বোমা উদ্ধার করে। কারা সেসব মজুত করেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিস জায়গাটি ঘিরে রেখে বম্ব স্কোয়াডকে খবর দিয়েছে। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। জেলার পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। 
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন সন্ধ্যায় দলীয় বৈঠক সেরে বাইকে চেপে শেখ নিয়ামুল বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, গরিবপাড়া এলাকায় একদল দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকে মারধর শুরু করে। লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। তিনি গুরুতর জখম হন। খবর পেয়ে কাঁকরতলা থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। জখম ওই তৃণমূল কর্মীকে উদ্ধার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। তবে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় তাঁকে রেফার করা হয়। দুর্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। শাসক-বিরোধী পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। 
ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি রাজনৈতিক কারণে খুন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিস ধরপাকড়ের পাশাপাশি একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত। মৃতের দাদা শেখ একরামুল বলেন, বেশ কয়েকজন মিলে ভাইকে মারধর করেছে। ভাইয়ের হাত-পা ভেঙে যায়। শরীরেও যথেষ্ট আঘাত লাগে। রাতেই দুর্গাপুর রেফার করা হয়েছিল। নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তাতেই ভাই মারা যায়। মৃতের বাবা শেখ হান্দু বলেন, ছেলে মিটিং থেকে ফিরছিল। তখনই বিজেপির লোকজন ছেলেকে মারধর করে। দোষীদের শাস্তি চাই। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগেই কাঁকরতলা থানার জামালপুরে বালির গাড়ি থেকে আদায় করা টাকার ভাগ নিয়ে ঝামেলার জেরে বোমাবাজি হয়। সেই ঘটনার পরই ওসি বদলি হন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই কাঁকরতলা থানা এলাকায় তৃণমূল কর্মী খুন হলেন। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের আশঙ্কা বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিস ঘটনায় তদন্ত করছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে খুন হল। পুলিসের উচিত তদন্ত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ