সংবাদদাতা, বালুরঘাট: শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে দু’বছরেও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের টেন্ডার কমিটিতে নেই কোনও কর্মাধ্যক্ষ। ফলে আধিকারিকদের হাতেই থাকছে টেন্ডারের যাবতীয় ক্ষমতা। আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঠিকাদাররা নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার কমিটিতে জেলা পরিষদের কোন দুই কর্মাধ্যক্ষ থাকবেন, তা নিয়ে তৃণমূল এখনও সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় দলের জেলা নেতৃত্বের ভূমিকায় উঠছে প্রশ্ন। জেলা পরিষদের সদস্য তথা দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার বলেন, টেন্ডার কমিটিতে আমাদের কর্মাধ্যক্ষরা না থাকায় কী নিয়মে কাজ হচ্ছে, জানতে পারছি না। মৃণালের বক্তব্য,টেন্ডার কমিটিতে দুই কর্মাধ্যক্ষ থাকার কথা। কারা থাকবে তা সিদ্ধান্ত নেবে জেলা নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি এবিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। এনিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল। গতবার বোর্ড গঠনের কিছু দিনের মধ্যে টেন্ডার কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। তবে এই বোর্ডের সময় দুই বছর হতে চললেও টেন্ডার কমিটিতে কোন দুই কর্মাধ্যক্ষ থাকবেন, ঠিক করতে পারছে না নেতৃত্ব। দলের অন্দরে শোনা যাচ্ছে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই তা থমকে রয়েছে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, টেন্ডার কমিটিতে ৭ জন সদস্য থাকেন। তার মধ্যে পাঁচ জন আধিকারিক, দু’জন কর্মাধ্যক্ষ। এই কমিটির কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ার যাবতীয় বিষয় দেখভাল করা। টেন্ডার নোটিস বের হওয়ার পরে বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারের কাগজপত্রের বৈধতা যাচাই করেন এই কমিটির সদস্যরা। দুই কর্মাধ্যক্ষ ছাড়াই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আধিকারিকরা। অভিযোগ, জেলা পরিষদের একাধিক কাজে ভুয়ো কাগজ দিয়ে টেন্ডারে ঠিকাদাররা অংশ নিচ্ছেন। এমনকী, তাঁদের কাগজ যাচাই না করে কাজের বরাত দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও জেলা পরিষদের ভুয়ো কাগজ দিয়ে কাজের বরাত দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শাসকদলের দুই গোষ্ঠী জেলা পরিষদে রয়েছে। কর্মাধ্যক্ষদের মধ্যে এক গোষ্ঠী বিপ্লব মিত্রর সমর্থক। অপর গোষ্ঠী অর্পিতা অনুগামী। দুই গোষ্ঠীর বিবাদের জেরে কোন কর্মাধ্যক্ষ কমিটিতে থাকবেন, তা নিয়ে জেলা নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এর আগে বিপ্লব গোষ্ঠীর দুই কর্মাধ্যক্ষকে কমিটিতে রাখার প্রস্তাব নেতৃত্বের তরফে নেওয়া হয়। তাতে অপর গোষ্ঠী বিরোধ করে। ফলে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়। এখনও দল সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে টেন্ডার কমিটিতে দুই কর্মাধ্যক্ষ কতদিনে ঠাঁই পায়, সেটাই এখন দেখার।



