সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: হাতে আর মাত্র তিনদিন। আগামী সোমবার অগ্রহায়ণ সংক্রান্তিতে ঝাড়গ্রাম সহ গোটা জঙ্গলমহলে পালিত হবে ঐতিহ্যবাহী ছোট মকর পরব। ঝাড়গ্রাম গ্রামীণ এলাকায় তার প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। এই পরবকে কেন্দ্র করে ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় হাট বসে। হাটগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় বসে মোরগ লড়াইয়ের আসর। পুরুলিয়া এলাকায় এদিন টুসু স্থাপন করা হয়। তবে ঝাড়গ্রাম এলাকায় শস্যের দেবী বা ‘ডিনি মাঁঞ’-কে পুজো করে ঘরে তোলা হয়। এই আচার ‘ঠাকুর আনা’ নামেও পরিচিত। এদিন সন্ধ্যায় ঘরে ঘরে পিঠেপুলির তৈরি হয়।
Advertisement
কৃষি কেন্দ্রিক এই উৎসব প্রাচীনকাল থেকেই জঙ্গলমহলে পালিত হয়ে আসছে। আগে বছরে একবার ধান চাষ হতো। তাই ছোট মকর পরব ছিল ফসল তোলার শেষ দিন। লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শস্যদেবীকে এই অগ্রহায়ণ সংক্রান্তিতে ঘরে নিয়ে আসার পাশাপাশি ধানের শিস থেকে ধান নিয়ে পরবের দিন সন্ধ্যায় একটি মাটির মালসায় আলপনা দিয়ে তার মধ্যে আতপ চাল, ধান, দূর্বা ও গাঁদাফুল দিয়ে তুলসীতলায় অথবা বারান্দায় টুসু পাতা হয়। পৌষ সংক্রান্তির টুসু পরবের সূচনা হয় এদিন থেকেই। এরপর থেকে সেই টুসুকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় গ্রামের মহিলারা গান গেয়ে জাগরণ করে থাকেন। সেই সঙ্গে ঠাকুর আনা হয়, ধান কাটার শুরুর দিন জমির মধ্যেই পাকা ধানের কয়েকটি গাছি যত্ন করে মাটিচাপা দিয়ে রেখে দেওয়া হয়। সমস্ত ধান ঘরে নিয়ে আসার শেষে এই সংক্রান্তির দিনে ওই ধানের গাছিগুলিকে পুজো করে ঘরে তোলা হয়। আর এই উপলক্ষ্যে ঘরে ঘরে পিঠেপুলি তৈরি হয়।
কুড়মালি ভাষার লেখক, সাহিত্যিক তথা ঝুমুর বিশেষজ্ঞ কিরিটি মাহাত বলেন, ছোট মকরের দিন থেকেই শুরু হয়ে গেল টুসু পরব। এদিন টুসু পাতানো হয়। সেইসঙ্গে শস্যদেবী, লক্ষ্মী, ডিনিমা যাই বলা হোক না কেন তাঁকে পুজো করে ঘরে তোলা হয়। বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। ঘরে ঘরে পিঠেপুলি হয়। এদিনের পর থেকে গ্রামের মহিলারা টুসু গীত গেয়ে তার জাগরণ করবেন।
কুড়মালি ভাষার লেখক, সাহিত্যিক তথা ঝুমুর বিশেষজ্ঞ কিরিটি মাহাত বলেন, ছোট মকরের দিন থেকেই শুরু হয়ে গেল টুসু পরব। এদিন টুসু পাতানো হয়। সেইসঙ্গে শস্যদেবী, লক্ষ্মী, ডিনিমা যাই বলা হোক না কেন তাঁকে পুজো করে ঘরে তোলা হয়। বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসে। ঘরে ঘরে পিঠেপুলি হয়। এদিনের পর থেকে গ্রামের মহিলারা টুসু গীত গেয়ে তার জাগরণ করবেন।
ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল এলাকার কুড়মালি সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ভূপেন মাহাত বলেন, আমাদের ঝাড়গ্রাম জেলাতে ‘ঠাকুর আনা’ ছোট মকর পরব হিসেবে পালিত হয়। এদিন থেকে মকর পরবের সূচনা হয়ে গেল। ছোট মকর উপলক্ষ্যে সাঁকরাইলের কুলটিকরিতে বিরাট হাট বসে। বাকড়া, রাঙাডিহা সহ বিভিন্ন জায়গায় মোরগ লড়াইয়ের আসর ঘিরে মেলা বসে। তবে নয়াগ্রামের খড়িকামাথানি হাটের মোরগ লড়াই সবচেয়ে বড়। বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়।



