নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী বছর ভোট। দুর্বল এআইএডিএমকের স্থান দখল করে নিজেকেই ডিএমকের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে হাজির করতে মরিয়া বিজেপি। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরলের সঙ্গে তামিলনাড়ুতেও বিধানসভা নির্বাচন। দক্ষিণের এই রাজ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার এআইএডিএমকে এখন দুর্বল। তাদের জায়গায় আগামী ভোটে রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠতে মরিয়া বিজেপি। কিন্তু সেই আশায় বড়সড় কাঁটা হয়ে উঠেছে হিন্দির আগ্রাসন সংক্রান্ত অভিযোগ। ভাষা ইস্যুতে বিজেপির তামিলনাড়ু ইউনিটেও ইস্তফার ঢল নেমেছে। হঠাৎই পদত্যাগ করলেন প্রথমসারির নেত্রীও। দল ছাড়ছেন কর্মীরাও।
Advertisement
ছয়ের দশকে তামিলনাড়ুতে হিন্দি ভাষাবিরোধী আন্দোলন কংগ্রেসের ভাগ্যকে চিরতরে সূর্যাস্তে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ১৯৬৭ সালের ভোটে ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর কংগ্রেস আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এবার তামিলনাড়ুতে আবার সেরকমই হিন্দি বিরোধী ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি)-তে ইংরাজি ও মাতৃভাষার সঙ্গে হিন্দিও পড়ার যে নিয়ম কেন্দ্র করেছে, সেই নির্দেশিকা মানবে না তামিলনাড়ু। আর এভাবে আচমকা ভোটের আগে তামিল সত্ত্বা ও ভাষার আবেগ নিয়ে ডিএমকে ময়দানে নামায় তীব্র ফাঁপরে পড়েছে বিজেপি। দলের অন্দরেও অসন্তোষ দানা বাঁধছে। দক্ষিণের এই রাজ্যে বিজেপির একের পর এক নেতানেত্রী এই ইস্যুতে পদ ও দল ছাড়ছেন। মঙ্গলবারও বিখ্যাত অভিনেত্রী ও বিজেপি নেত্রী রঞ্জনা নাচিয়ার দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর পথ ধরেই বহু বিজেপি কর্মীসমর্থকও দল ছাড়ছেন। কারণ, তামিল ভাষার আবেগ। কর্মী সমর্থকরা বলছেন, আবার তামিল ভাষা নিয়ে দিল্লি আগুন জ্বালাচ্ছে। একবার কংগ্রেস শিক্ষা পেয়েছে। এবার বিজেপি পাবে। স্ট্যালিন মঙ্গলবার বিভিন্ন অহিন্দিভষী মুখ্যমন্ত্রীকে এই ইস্যুতে একজোট হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হিন্দি, এনইপি, নিট, এই তিনটি সিদ্ধান্ত জোর করে চাপানো যাবে না। আমরা প্রতিবাদ করব। এটাই হবে আগামী বছরের ভোটের ইস্যু। স্বাভাবিকভাবে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সতর্ক। তারা গোটা বিষয়টি নিয়ে সাবধানতার সঙ্গে এগোতে চাইছে। তাই কোনওরকম বেফাঁস মন্তব্য যেন কেউ না করে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ইস্যুতে তামিলনাড়ুতে তামিল সত্ত্বাকে রক্ষা করতে বৃহত্তর জোটেরও আহ্বান করেছেন স্ট্যালিন। ফলে ভাষা বিতর্কের আঁচ আগামীদিনে কেরলেও পড়বে না তো? সেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে বিজেপির মধ্যে।



