নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দুই সহ শিক্ষক ও শিক্ষিকাকে ঢুকতেই দিলেন না প্রধান শিক্ষিকা। মঙ্গলবার এনিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল তমলুক শহরের তাম্রলিপ্ত হরিজন প্রাইমারি স্কুলে। এমন অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল ইতিহাস সমৃদ্ধ প্রাচীন শহর তমলুক। অগত্যা স্কুলে ঢুকতে না পেরে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) অফিসে হাজির হন ওই দুই শিক্ষক-শিক্ষিকা। প্রধান শিক্ষিকা বর্ণালী মহেশের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ ঝামেলার কারণেই একদিনেই ৩৩ জন ছাত্রছাত্রী ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে চলে গিয়েছে। এখন মাত্র চারজন পড়ুয়া রয়েছে। তাদেরকেও অন্য প্রাথমিক স্কুলে নিয়ে যেতে চাইছেন অভিভাবকরা। নিজেদের ঝামেলায় স্কুল পড়ুয়াশূন্য হয়ে পড়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় মানুষ। তা সত্ত্বেও হুঁশ ফেরেনি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এদিকে, আশ্চর্যজনকভাবে স্কুল পরিদর্শক অফিস থেকে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ অফিস গোটা বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকায় মানুষজনের ক্ষোভ আরও চড়ছে।
Advertisement
তমলুক পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিতি তাম্রলিপ্ত হরিজন প্রাইমারি স্কুল। ১৫ দিন আগেও ৩৭জন পড়ুয়া ছিল। চতুর্থ শ্রেণি পাশ করার পর তিনজন পড়ুয়া অন্য স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। স্কুলে প্রি-প্রাইমারি বয়সের ১০ জন শিশু ছিল। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৪৫ জন পড়ুয়া নিয়ে স্কুল চলার কথা ছিল। কিন্তু, প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে দুই সহ শিক্ষক, শিক্ষিকার তীব্র গোলমালে স্কুলে পঠনপাঠন একেবারে লাটে উঠেছে। রোজদিন স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের ঝামেলা লেগেই থাকত। তাতে অচলাবস্থা পরিস্থিতি তৈরি হতো। এই অবস্থায় স্কুলে ছেলেমেয়েদের পড়ানোর ঝুঁকি নেননি অভিভাবকরা। ৩১ ডিসেম্বর একদিনে ৩৩ জন পড়ুয়া টিসি নিয়ে অন্য স্কুলে চলে যায়।মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ দুই সহ শিক্ষক ও শিক্ষিকা অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা অধিকারী স্কুলে ঢুকতে গেলে বাধা পান। তার আগে অবশ্য প্রধান শিক্ষিকা বর্ণালী মহেশ স্কুলে পৌঁছে যান। দু’জনের স্কুলে আসার খবর পেয়ে ভেতর থেকে স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। দুই সহ শিক্ষক শিক্ষিকা তালা খোলার জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে আবেদন করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। নিরুপায় হয়ে ওই দু’জন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এদিন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে স্কুলে গণ্ডগোল চলাকালীন স্থানীয় লোকজনও জড়ো হন। শিক্ষক-sশিক্ষিকাদের এহেন আচরণে তাঁরা তীব্র নিন্দা করেন। গত আগস্ট মাসে প্রধান শিক্ষিকা নন্দকুমারের ঠেকুয়াবাজার চক্র থেকে ওই স্কুলে বদলি হয়ে আসেন। তারপর থেকেই তাঁর সঙ্গে স্কুলের অপর দুই শিক্ষক শিক্ষিকার ঝামেলা তুঙ্গে ওঠে। এদিন বেলা দেড়টা নাগাদ স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র দু’জন পড়ুয়া স্কুলে রয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা স্কুলের দোতলার বারান্দা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বলেন, ‘দুই সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা স্কুলকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এখন ছাত্রছাত্রীরা অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছেন। স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’অপরদিকে, দুই সহ শিক্ষক শিক্ষিকা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে বর্ণালী মহেশ এই স্কুলে আসার পর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। গোটা বিষয়টি জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল থেকে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক জানেন। প্রধান শিক্ষিকাকে তিনবার শোকজ করা হয়েছে। ডিপিএসসি অফিসে শুনানিও হয়েছে। তারপরও অবস্থার বদল হয়নি।’



