Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুকের রেভিনিউ অফিসারের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা হাতাল সাইবার অপরাধীরা

তমলুকের রেভিনিউ অফিসারের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা হাতাল সাইবার অপরাধীরা
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ‘ট্রাই’ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তমলুক ব্লকের রেভিনিউ অফিসারের কাছ থেকে ১৫লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল সাইবার অপরাধীরা। তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে জাল সিমকার্ড ও প্রচুর ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। ওইসব অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে ভয় দেখানো হয়। ওই ঘটনায় সিবিআই এবং আরবিআই যৌথভাবে তদন্ত করছে বলে দাবি করেছিল সাইবার প্রতারকরা। হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়ো অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টের পেপার পাঠিয়েছিল। তা঩তেই ঘাবড়ে গিয়ে পটাশপুর থানার ব্রজবল্লভপুরের বাসিন্দা বিবেকানন্দ নন্দ গোস্বামী ১৪লক্ষ ৯৮হাজার ১২৩টাকা দিয়ে দেন। তারপর ফের ১০লক্ষ টাকা চাওয়ায় ওই ভূমি অফিসারের টনক নড়ে। তিনি ৩০অক্টোবর এসপি অফিসে সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করেন।
Advertisement
গত ১৫অক্টোবর সকাল ১১টা নাগাদ বিবেকানন্দবাবু হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন পান। উল্টো দিকে থাকা ব্যক্তি নিজেকে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার(ট্রাই) অফিসার পরিচয় দেয়। বিবেকানন্দবাবুকে জানায়, তাঁর আধার নম্বর ব্যবহার করে দিল্লিতে সিম কার্ড তোলা হয়েছে। সেই সিমকার্ড বহু আর্থিক প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁর আধার ব্যবহার করে গোটা দেশে একশোর বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেইসব অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। সিবিআই এবং আরবিআই ঘটনার তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়ে গিয়েছে। যে কোনও সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন। এসব শুনে বিবেকানন্দবাবু আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাতে খানিকটা অভয় দেওয়ার ঢঙে ওই ব্যক্তি জানায়, ঘাবড়ানোর দরকার নেই। তদন্তে সহযোগিতা করলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আপাতত ১৫লক্ষ টাকা দিতে হবে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
ট্রাই অফিসার পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি ফোন কাটার পর বিবেকানন্দবাবু প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান। বাড়ির লোকজন জানলে চিন্তায় পড়ে যাবে, এই আশঙ্কায় কাউকে কিছু বলেননি। এরপর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আরটিজিএস করে ১০লক্ষ ১৬হাজার ৫০০টাকা পাঠান। আরও একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৪লক্ষ ৩১হাজার ৬২৩টাকা এবং এসবিআই ব্যাঙ্কের অ্যাপ থেকে ৫০হাজার টাকা পাঠান। সবমিলিয়ে ১৪লক্ষ ৯৮হাজার ১২৩টাকা দেন। এক ফোনে প্রায় ১৫লক্ষ টাকা হাতানোর পর সাইবার প্রতারকরা আবার তাঁকে ফোন করে। এবার ১০লক্ষ টাকা চায়। ওই ফোন পেয়ে বিবেকানন্দবাবুর কিছুটা সন্দেহ হয়। এরপর তিনি তমলুকে সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে এফআইআর করেন। ভূমি দপ্তরের ওই রেভিনিউ ইন্সপেক্টর বলেন, ওরা এমনভাবে ভয় দেখিয়েছিল যে আমি সবটাই সত্যি মনে করেছিলাম। নিজেকে বাঁচানোর জন্য ১৫লক্ষ টাকা দিয়ে ফেলি। বাড়িতে অবশ্য অত টাকা খোয়া যাওয়ার কথা বলিনি। আবার ওরা ১০লক্ষ টাকা চেয়ে ফোন করছে। তাই থানার দ্বারস্থ হয়েছি। 
ঘটনার তদন্তকারী অফিসার প্রভাকর নায়ক বলেন, যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়েছে আমরা সেগুলি ব্লক করার ব্যবস্থা করেছি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্টেটমেন্ট চাওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলে নিয়ম অনুযায়ী ফেরানো হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ