Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক মেডিক্যাল পাচ্ছে ১২ লক্ষ টাকা

তমলুক মেডিক্যাল পাচ্ছে ১২ লক্ষ টাকা
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: লেবার রুমের পরিচ্ছন্নতায় সাফল্য হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের পুরস্কার পেল তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মানপত্র ছাড়াও আর্থিক ১২লক্ষ টাকা পুরস্কার পাবে। ইতিমধ্যে মানপত্র চলে এসেছে। আর্থিক পুরস্কার বাবদ ১২লক্ষ টাকাও দ্রুত পাওয়া যাবে। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেজায় খুশি। আরও খুশি স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ন্যাশনাল হেল্থ মিশনের অধীনে প্রসূতি মায়েদের সুরক্ষায় লেবার রুমের গুণগত মানের জন্য লাক্স পুরস্কার চালু হয়েছে। এছাড়াও সদ্যোজাত ও শিশুদের জন্য মুস্কান পুরস্কার রয়েছে। তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লেবার রুম ও সন্তানসম্ভবা মায়েদের ওটি রুমের পরিচ্ছন্নতায় পুরস্কার অর্জন করেছে।
Advertisement
তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ শর্মিলা মল্লিক বলেন, আমরা লাক্স পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছিলাম। তারভিত্তিতে ইন্সপেকশনের এসেছিল টিম। প্রসূতি বিভাগের লেবার রুমের পরিকাঠামো তারা  খতিয়ে দেখে। চিকিৎসক থেকে নার্স এবং সাফাই কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলে। তারপর আমরা এই পুরস্কার অর্জন করেছি। এই পুরস্কারের জন্য আমরা ১২লক্ষ টাকা পাব। সেই টাকা পরিকাঠামোগত কাজে ব্যবহৃত হবে।
গত জানুয়ারি মাসে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মোট ৫১২টি ডেলিভারি হয়েছে। আগে এই হাসপাতালে মাসে ৮০০ থেকে ১০০০ পর্যন্ত ডেলিভারি হতো। কিন্তু, ইদানীং নার্সিংহোম এবং বেসরকারি হাসপাতালে ডেলিভারির জন্য সন্তানসম্ভবাদের ভিড় বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালকে টেক্কা দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। এই অবস্থায় সরকারি হাসপাতালেও পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে পরিকাঠামো এবং পরিষেবার গুণগত মান আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। যেকারণে কেন্দ্রীয় সরকারে থেকে এই পুরস্কার অর্জন করেছে তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হওয়ার পর থেকে এখানে মেল ও ফিমেল মেডিসিন বিভাগে রোগীর চাপ ভীষণ বেড়েছে। ২০২৩সালে স্বাস্থ্যভবন থেকে অনলাইন হেল্থ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম(এইচএমআইএস) চালুর নির্দেশ দিলেও এখনও ঠিকমতো কার্যকর করা যায়নি। সোমবার দুপুর ২টোয় এনিয়ে হাসপাতালে মিটিং করেন প্রিন্সিপাল। প্রত্যেক রোগীর ইউনিক আইডি থাকবে। এক ক্লিকে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। বিভিন্ন নামী বেসরকারি হাসপাতালে এই সিস্টেম চালু আছে। তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও এই সিস্টেম দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তমলুক থানার বহিচাড় গ্রামের মামনি মণ্ডল সদ্যোজাত শিশু নিয়ে প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে বাড়ির পথে রওনা দেন। তিনি বলেন, তমলুক জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত হওয়ার পর অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাইরে থেকে ঝাঁ চকচকে বিল্ডিং আমাদের সকলের নজরে পড়ে। ওয়ার্ডের মধ্যেও অনেক বদল এসেছে। প্রসূতি বিভাগে পরিকাঠামো এবং পরিষেবা আগের চেয়ে আরও ভালো হয়েছে। এর ফলে আমাদের মতো অনেক সন্তানসম্ভবা মা এখানে আস্থা রাখছেন। পুরস্কার পাওয়ার খবর জানতে পেরে ভালো লাগছে। আশা করব, আগামী দিনেও এই সাফল্য বজায় থাকবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ