Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ দিন, সঙ্কটজনক হতেই পর্দা ফাঁস, বেডের নীচে থরে থরে টাকা!

তমলুক হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ দিন, সঙ্কটজনক হতেই পর্দা ফাঁস, বেডের নীচে থরে থরে টাকা!
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর বালিশের নীচ থেকে প্রচুর টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চক্ষু চড়কগাছ নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। ওই রোগীর নাম শুভ ওয়ারেশি(৪৪)। হাসপাতালে ভর্তির সময় ঠিকানা হিসেবে তমলুক থানার শিমুলিয়া গ্রাম উল্লেখ রয়েছে।  ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই বাড়ির লোকজনের কোনও খোঁজ নেই। ভর্তির সময় দেওয়া ফোন নম্বরেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ওই ফোন নম্বরে ইনকামিং কলের সুবিধা নেই। বাধ্য‌ হ঩য়ে হাসপাতাল থেকে তমলুক থানায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু, বুধবার সেই রোগীর বালিশের তলায় থরে থরে নোট দেখে সকলেই হতবাক। এদিন তাঁকে জেনারেল বেড থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেই সময় তাঁর বেডে বালিশের নীচ থে঩কে উদ্ধার হল ৯৪ হাজার টাকা।
Advertisement
সোমবার সকাল থেকেই শুভ নামে ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। প্রবল শ্বাসকষ্টে একেবারে যমে-মানুষে টানাটানি অবস্থা। বিষয়টি দ্রুত হাসপাতালের অ্যাডিশনাল মেডিক্যাল সুপার ভাস্কর বৈষ্ণবের নজরে আনেন কর্তব্যরত নার্স। আড়াই মাস আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বাড়ির লোকজনের খোঁজ নেই। ফোন নম্বরেও যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তাই কর্তব্যরত নার্স তাঁর শারীরিক অবনতির বিষয়টি ভাস্করবাবুর নজরে আনেন। 
তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওই অফিসার মেল মেডিক্যাল ওয়ার্ডে ওই রোগীর কাছে গিয়ে শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর তাঁকে আইসিইউতে ভর্তির নির্দেশ দেন। জেনারেল বেড থেকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর বেড পরিষ্কার করতে গিয়ে বালিশের নীচ থেকে শুধুই টাকার বান্ডিল বের হয়। ৫০০, ২০০ ও ১০০ টাকার নোটেল বান্ডিল দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের চোখ কপালে। রোগা, শীর্ণকায় ৪৪ বছরের ওই রোগীর মাথার চুল ও গোঁফ, দাড়ি পেকে গিয়েছে। চেহারা দেখলে মনে হবে বয়স ৬০এ পৌঁছে গিয়েছে। এরকম এক রোগীর বেড থেকে থরে থরে টাকা দেখে সকলেই আশ্চর্য। ওই খবর জানাজানি হতেই ওয়ার্ডের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। উদ্ধার হওয়া টাকা গুণে দেখা যায়, সেখানে ৯৪ হাজার টাকা রয়েছে।
বাড়ির লোকজন না থাকায় আপাতত হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির ক্যাম্প থেকেই তাঁর দেখভাল করা হচ্ছে। বুধবার আরও একদফায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই রোগীর বাড়ির লোকজনের খোঁজ খবরের জন্য থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ভর্তির সময় ঠিকানা ছিল তমলুক থানার শিমুলিয়া গ্রাম। সেই গ্রামে পুলিস গিয়ে ওই নামে কোনও ব্যক্তির বাড়ি আছে কিনা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে।  
হাসপাতালের অ্যাডিশনাল মেডিক্যাল সুপার ভাস্করবাবু বলেন, ৩০ নভেম্বর ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই বাড়ির লোকের কোনও খোঁজখবর নেই। হাসপাতালে দেওয়া ফোন নম্বরেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বুধবার ওই রোগীর প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তাঁকে জেনারেল বেড থেকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেই সময় তাঁর বেড থেকে  ৯৪হাজার টাকা পাওয়া যায়। পুলিসকে সবটা বলা হয়েছে। হাসপাতালের রেজিস্টারে উল্লেখ করা বাড়ির ঠিকানাও পুলিসকে দেওয়া হয়েছে। 
তমলুক থানার আইসি বলেন, আমরা শিমুলিয়ায় ওই নামে কোনও ব্যক্তি থাকেন কিনা খোঁজখবর শুরু করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই রোগীর নাম, ঠিকানা দিয়েছে। সেইমতো শিমুলিয়া গ্রামে খোঁজখবর চলছে।-নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ