নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ফের সমবায় নির্বাচনে বিপুল জয় পেল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার হুগলি জেলা সদর ব্লক চুঁচুড়ার রাজহাট পঞ্চায়েত সমিতিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। ৪৭টি আসনের একটিতেও বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি। ফলে, এদিন ৪৭ জন তৃণমূল প্রতিনিধিকেই জয়ী ঘোষণা করা হয়। গত চারবার ওই সমবায় কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই দখলে রাখল তৃণমূল। এদিন সদস্যরা ওই বিপুল জয়ের জন্য নাগরিকদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। জয়ীদের সংবর্ধনা দিতে উপস্থিত হয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারও। এদিন তিনি বলেন, শুধু নাগরিকরা নয়, বিরোধীরাও আমাদের সমবায় পরিচালনার দক্ষতার উপরে ভরসা রাখছে। সেই কারণেই তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি। আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়ল। কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে লাগাতার কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যদিও বিরোধীদের দাবি, রাজহাট সমবায়ের নির্বাচনী প্রক্রিয়া গোপন করা হয়েছে। বিজেপির জেলা নেতা সুরেশ সাউ বলেন, গোপনে গোপনে নির্বাচন সারছে তৃণমূল। কারণ ওরা জানে, মানুষ ভোট দেবে না। যদিও এদিন সদ্য নির্বাচিত এক সমবায় প্রতিনিধি বলেন, গত চারমাস ধরে ভোট প্রক্রিয়া, নোটিস দেওয়া চলছে। বিরোধীরা ঘুমিয়ে থাকলে আমরা কী করতে পারি? পাণ্ডুয়াতে যদিও বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাহলে রাজহাটে পারে না কেন? আসল কথা, ওদের জনসমর্থন নেই।
প্রসঙ্গত, চুঁচুড়া ও সংলগ্ন বলাগড়ে গত তিনমাসে লাগাতার সমবায় নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে তৃণমূল। বিরোধীরা কোথাও ময়দানেই দাঁড়াতে পারেনি। কোথাও আবার খড়কুটোর মতোই উড়ে গিয়েছে। একই ফলাফল হয়েছে কোন্নগরসহ একাধিক এলাকায়। আবার পাণ্ডুয়াতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ভোটে লড়লেও বাম ও বিজেপি কল্কে পায়নি। ফলে, মসৃণভাবে চলছে তৃণমূলের সমবায় নির্বাচনের বিজয় রথ। এই ঘটনা বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসক দলকে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।