নিজস্ব প্রতিনিধি, সবং: জেলার বিভিন্ন ব্লকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ২১জুলাই শহিদ সমাবেশের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন। পিছিয়ে নেই সবং ব্লকও। রবিবার সবং ব্লকের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে বিশেষ প্রস্তুতি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া, বিধায়ক অজিত মাইতি, প্রাক্তন বিধায়ক গীতারানি ভুঁইয়া, জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্স সহ প্রথম সারির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ১৭ ও ১৮ জুলাই বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বুথস্তরে মিটিং হবে।
তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, এবার কর্মীদের সুবিধার্থে প্রচুর বাসের ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া, ট্রেন ও ছোট গাড়িতে চেপেও বহু মানুষ কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সবং ব্লক থেকে ১৫-২০হাজার কর্মীসমর্থক সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে সারা বাংলার মানুষ কুর্নিশ জানান। তাই এবারও সবং থেকে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ কলকাতার সমাবেশে যোগ দেবেন। জেলার মানুষ সিপিএমের অত্যাচার আজও ভুলতে পারেননি। তাই তাঁরা উন্নয়নের পথই বেছে নিয়েছেন। বিভিন্ন ব্লকে প্রচুর উন্নয়নের কাজ হচ্ছে।বাম আমলে সবং ব্লকজুড়ে রাজনৈতিক হানাহানি লেগেই থাকত। ১৯৭৮সালের পর থেকে হানাহানি বাড়তে শুরু করে। বাড়ি ভাঙচুর, খুন, বাড়ি বাড়ি ঢুকে লুট, ধর্ষণ সহ নানা অসামাজিক কাজ হতো।
তৃণমূলের প্রবীণ নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন, সিপিএমের অত্যাচারে বহু মানুষ ঘরছাড়া ছিলেন। বাম আমলে সিপিএম নেতাদের কথা অমান্য করলেই মারধর করা হতো। সবংয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে টানা লড়াইয়ের মাধ্যমেই তৃণমূল ক্ষমতায় আসে।এখন সেই হানাহানির ছবিটা উধাও হয়ে গিয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক গীতারানি ভুঁইয়া বলেন, মানুষ উন্নয়ন বোঝেন। আগে এই এলাকার মানুষ কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেন না। এখন তা পাচ্ছেন। তাই তাঁরা তৃণমূলের পাশেই থাকবেন বলে আমরা আশাবাদী।জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্স বলেন, নেতাকর্মীরাই আমাদের দলের সম্পদ। এবছর রেকর্ড কর্মীসমর্থক ধর্মতলায় যাবেন। কর্মীসমর্থকদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র