নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির পাশাপাশি বাঁকুড়ায় বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিও প্রাথমিকভাবে সেরে রাখতে চাইছে তৃণমূল। সেই লক্ষ্যে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ব্লক ও অঞ্চলস্তরে কর্মিসভাও করার ব্যাপারে ঘাসফুল শিবির উদ্যোগী হয়েছে। বিরোধীরা ময়দানে নামার আগেই শাসক দল ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দিতে চাইছে। তালডাংরা বিধানসভার কর্মীদের নিয়ে ইতিমধ্যেই সভা করা হয়েছে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে। জঙ্গলমহলের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রকে এবারও তৃণমূল কংগ্রেস পাখির চোখ করেছে। পাশাপাশি গতবার পিছিয়ে থাকা কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। সেখানকার কর্মীদের বুথস্তরে এখন থেকেই নিবিড় প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপারে সক্রিয় কর্মীদের দলের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, গত লোকসভা ভোটে আমরা জেলায় সাফল্য পেয়েছি। তাতে আত্মতুষ্টিতে ভোগা চলবে না। ফলে ভোটার তালিকা স্ক্রটিনির পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিও আমরা সেরে ফেলতে চাইছি। জঙ্গলমহল গত ১৫ বছর ধরেই আমাদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। জেলার বাকি বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতেও সংগঠন মজবুত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতো বাঁকুড়াতেও তালিকায় পরপর ভূতুড়ে ভোটারের খোঁজ মিলছে। পাশাপাশি গত লোকসভা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা তৃণমূল নেতাকর্মীদের নাম তালিকা থেকে বিনা কারণে বাদ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব বুথ ধরে ধরে ভোটার তালিকা স্ক্রটিনির কাজ শুরু করেছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকা পরীক্ষা বা বুথে বসবাসকারীদের নাম মিলিয়ে দেখার জন্য শাসক দলের কর্মীদের পাড়ায় পাড়ায় যেতে হবে। ফলে সেখানে গিয়ে তাঁরা বাসিন্দাদের সঙ্গে জনসংযোগের সুযোগ পাবেন। ভোটের আগে দলের হয়ে প্রচারেরও সুযোগ থাকবে। কিন্তু, ভোটের এক বছর আগে কীভাবে প্রচার চলবে? এর উত্তরে তৃণমূলের নেতারা জানিয়েছেন, প্রার্থী ঘোষণা বা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হলেই যে ভোট প্রচার শুরু হয় তা নয়। বর্তমানে সারা বছর ধরেই সংগঠনের কাজকর্ম চলে। তাতে আমাদের দল ও সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম প্রচার করতে হয়। পাশাপাশি চায়ের দোকান, পাড়ার মাচায় বিরোধীদের প্রচারের পাল্টা উত্তরও দিতে হয়। আগামী এক বছর ধরে কর্মীরা অল্প অল্প করে কাজ সেরে রাখলে ভোটের মুখে বাড়তি চাপ নিতে হবে না। সেই কারণে ভোটার তালিকা স্ক্রটিনিকে সামনে রেখেই সংগঠনের ভিত মজবুত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।