নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: প্রায় একদশক পর কো-অপারেটিভ সোসাইটির নির্বাচন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ, মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট সোসাইটির নির্বাচন হবে। তাতে তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট প্রভাবিত অফিসার, শিক্ষক ও কর্মচারীরা ১৫টি করে আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। কিন্তু, বিজেপি প্রভাবিত শিক্ষকরা সমস্ত আসনে প্রার্থী দিতে পারেননি। তাদের উপস্থিতি কার্যত আনুষ্ঠানিক বলেই অভিযোগ। নির্বাচনের আগের দিন সোমবার, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এনিয়ে চাপা উত্তেজনা ছিল।
কো-অপারেটিভ নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা জানান, সংশ্লিষ্ট সমিতির নির্বাচন সুষ্ঠুমতো করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের সময় পুলিসও এলাকায় মোতায়েন থাকবে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পর্ব চলবে। এরপর বিকেলে ভোটগণনার পর ফল ঘোষণা হবে। এখানে ভোটার সংখ্যা ৩৫৯জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬সালে সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতিতে শেষ বার ভোট হয়। নির্বাচিত ওই বোর্ড ২০২১ সাল পর্যন্ত সমবায় পরিচালনা করেছে। সংশ্লিষ্ট বোর্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর আর ভোট হয়নি। দীর্ঘদিন পর এবার এখানে ভোট হচ্ছে। তিনটি প্যানেল দাখিল হয়েছে। যারমধ্যে একটি প্যানেল তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত সংগঠনের। ওয়েবকুপার দার্জিলিং জেলা সভাপতি(সমতল) ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, একমাত্র আমাদের প্যানেলেই অফিসার, শিক্ষক ও কর্মচারী প্রতিনিধি রয়েছেন। এই প্যানেল নিয়ে প্রচার চালিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। তাছাড়া, ২০১৮-১৯সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী পদে যোগ দেওয়া প্রায় ৫০জন কর্মচারীকে সমবায় সমিতির সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। আমাদের ইস্যুও কর্মচারীদের নজর কেড়েছে। তাই এবার এখানে আমাদের ফল ভালো হবে বলেই আশা করছি।
সিপিএম প্রভাবিত উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সম্পাদক সুমন চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ২০১৮-১৯সালে সমবায়ে কোনও নির্বাচিত বোর্ড ছিল না। কাজেই, স্থায়ী পদে যোগ দেওয়া কর্মীদের সদস্যপদ দেয়নি সেই সময় বোর্ডের দায়িত্বে থাকা কমিটি। এটা তেমন কিছু বিষয় নয়। তবে, আমরা সমবায় সমিতি রক্ষা করার জন্য লড়াই করছি। আমাদের প্যানেলে সরকারি অফিসার না থাকলেও একজন শিক্ষক ও ১৪জন কর্মচারী রয়েছে। আশা করছি, আমাদের ফল ভালো হবে। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংগঠনের রাজ্য সহ সভাপতি ডঃ অর্ধেন্দু মণ্ডল বলেন, সব আসনে প্রার্থী দিতে না পারলেও লড়াইয়ে আমরা রয়েছি।