নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভাতৃত্বের শহরে সম্প্রীতির মহাযজ্ঞে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। পয়লা বৈশাখ বাংলা দিবসের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। আসানসোল থেকে পাণ্ডবেশ্বর, জামুড়িয়া থেকে দুর্গাপুর বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করছে শাসক দল। প্রতি র্যালিতেই সর্বধর্ম সম্প্রীতিকে তুলে ধরতে জোর দেওয়া হচ্ছে। কোথাও হিন্দু ও মুসলিম ধর্মালম্বী মানুষের ছবি দেওয়া ব্যাজ পরে মিছিলে হাঁটা হবে। হাতে হাত দিয়ে হাঁটবেন হিন্দু, মুসলিম, শিখ সম্প্রদায়ের মানুষরা। সঙ্গে থাকবেন নেতা-মন্ত্রীরা। পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, বাংলা সম্প্রীতির মাটি। একটি রাজনৈতিক দল যতই উস্কানি দিক, সম্প্রীতির বন্ধন ভাঙা যাবে না। বাংলার দিবসে সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শক্তি দেখবে বাংলার শত্রুরা। আমরা সব সম্প্রদায়ের মানুষ হাতে হাত ধরে বাংলা দিবসের র্যালিতে হাঁটব।
মিশ্র সংস্কৃতির আসানসোলকে ভাতৃত্বের শহর বলা হয়। এখানে হিন্দি ও বাংলাভাষী যেমন মানুষ থাকেন। তেমনই হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের সহবস্থান রয়েছে। কয়েক বছর আগে বিভিন্নভাবে হানাহানির ঘটনা ঘটে। সেইসময়ে আসানসোলের ইমাম ইমদাদুল্লাহ রসিদি নিজের ছেলের মৃত্যুর পরও হিংসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও শান্তি বজায় রাখেন। বরাবরই এখানে হিন্দু, মুসলিম হাতে হাত ধরে থেকেছে। সম্প্রীতির বন্ধনকেই আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভাজুড়ে সম্প্রীতির র্যালির আয়োজন করা হয়েছে ১ বৈশাখ। সেখানে বিশেষ ব্যাচ দেওয়া হবে। এই ব্যাচে থাকবে সম্প্রীতির বার্তা। জামুড়িয়ার তৃণমূল ব্লক সভাপতি সুব্রত অধিকারী বলেন, জামুড়িয়া বাজারে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক র্যালি হবে। সেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সামনের সারিতে হাতে হাত ধরে হাঁটবে।
আসানসোলের গির্জা মোড় থেকে রাহালেন মোড় পর্যন্ত জিটি রোডের উপর বিশাল র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। যার নেতৃত্ব থাকবেন মন্ত্রী মলয় ঘটক। সেখানেও নানা ধর্মের মানুষের পাশাপাশি অবস্থান হবে। দুর্গাপুরের রায়ডাঙায় হনুমান জয়ন্তীর র্যালিতে অংশ নেওয়া মানুষদের শরবত খাওয়াতে দেখা যায় মুসলিম পরিবারের মানুষদের। শনিবার আসানসোল উত্তর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মন্ত্রী মলয় ঘটক খোল ও করতাল বিলি করেন। সেখানেও তিনি বাংলার সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর জোর দেন।