Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইউনিয়ন রুমে ছাত্রীকে দিয়ে মাথা টেপাচ্ছেন তৃণমূলের যুব নেতা! সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ে অভিযোগ ঘিরে শোরগোল

চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আছেন যুব নেতা। আঙুলের ফাঁকে জ্বলন্ত সিগারেট। চেয়ারের পিছনে দাঁড়িয়ে এক তরুণী নেতার মাথা টিপে দিচ্ছেন। তরুণী আদতে ওই কলেজের ছাত্রী!

ইউনিয়ন রুমে ছাত্রীকে দিয়ে মাথা টেপাচ্ছেন তৃণমূলের যুব নেতা! সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ে অভিযোগ ঘিরে শোরগোল
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আছেন যুব নেতা। আঙুলের ফাঁকে জ্বলন্ত সিগারেট। চেয়ারের পিছনে দাঁড়িয়ে এক তরুণী নেতার মাথা টিপে দিচ্ছেন। তরুণী আদতে ওই কলেজের ছাত্রী! ঘটনাস্থল সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম। তৃণমূলের এক যুব নেতার এমনই একটি ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তারপরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে চারপাশে। সূত্রের খবর, ভিডিওয় যে যুব নেতাকে দেখা গিয়েছে, তাঁর নাম প্রতীক দে। বর্তমানে তিনি ওই কলেজের টিএমসিপি’র কো-অর্ডিনেটর পদে রয়েছেন। ভিডিওটি যে লুকিয়ে তোলা হয়েছে, তাও স্পষ্ট। অনেকে মনে করছেন, নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্রীকে ওই কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। কসবার ল’ কলেজে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে যখন তোলপাড় রাজ্য, তখন সোনারপুর কলেজের এই ভিডিও বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল। সোচ্চার হয়েছে বিরোধী ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলিও। প্রশ্ন উঠছে, কলেজ কি তাহলে ছাত্র রাজনীতির আড়ালে ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠছে? জানা গিয়েছে, ওই যুব নেতা এই কলেজের ছাত্রও ছিলেন না কখনও। শুধুমাত্র কো-অর্ডিনেটর হয়েই কি এভাবে ক্ষমতার আস্ফালন দেখাতে অভ্যস্ত তিনি? এমন ঘটনা কি ইউনিয়ন রুমে প্রায়শই ঘটত? এসব প্রশ্নেই চলছে জোর চর্চা। প্রসঙ্গত, এর আগেও বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল প্রতীকের। তাঁর বিরুদ্ধে একসময় সরব হয়েছিলেন রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পাপিয়া হালদার। তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল প্রতীকের বিরুদ্ধে। ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে কাউন্সিলারের বক্তব্য, ‘এটা কাম্যই ছিল। বিষয়টি খুবই লজ্জার। এক সময় আমাকেও নানাভাবে হেনস্তা করেছিলেন উনি। দলের কাছে অভিযোগ করেছিলাম। তারপরও যেভাবে ওই নেতার দায়িত্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে, তাতে এমন ঘটনায় অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ বিতর্কের মুখে তৃণমূল যুব নেতার দাবি, ‘এটা ফেক ভিডিও। এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।’

Advertisement

যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। দল দেখছে বিষয়টি। দলের সঙ্গে জড়িত ছাত্র-যুবদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’  প্রসঙ্গত, ভাইরাল ভিডিওটি কতদিন আগের, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নতুন হোক বা পুরনো, ইউনিয়ন রুমে এমন কীর্তি যে সমর্থনযোগ্য নয়, মঙ্গলবারই তা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের একাংশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ