নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভাইজান-মন্ত্রীর লড়াই আপাতত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু, মন্তেশ্বর কার্যত আগ্নেয়গিরির স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে। যে কোনও সময় ক্ষোভের লার্ভা নির্গত হতে পারে। সেকথা মাথায় রেখে দু’পক্ষের রাশ টেনে ধরেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলা নেতৃত্বের অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মসূচি করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, পরিস্থিতি দেখে জেলা নেতৃত্ব সম্মতি দিলে তবে তাঁরা সভার জন্য মঞ্চ বাঁধতে পারবেন। ইচ্ছে করলেই ক্ষমতা জাহির করতে পারবেন না তাঁরা। দলের এক নেতা বলেন, বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া যাবে না। কেউই দলের কাছে অপরিহার্য নয়। কর্মী-সমর্থকরাই শেষ কথা। এটা তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই টনিকে কাজ হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্তেশ্বরে কিছুটা ঠান্ডা আবহ থাকলেও পাশের ব্লক মেমারি-২ এর হাওয়া তপ্ত হচ্ছে। এখানকার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে দলের একাংশ সরব হয়েছে। তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ময়না টুডু বলেন, বিষয়টি দল ও পুলিসকে জানিয়েছি। এই ব্লকেও আর এক ভাইজানের উত্থান হয়েছে বলে দলের কর্মীদের দাবি। তিনিও এলাকায় প্রভাব বিস্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও কিছুদিনের মধ্যে ফুলেফেঁপে উঠেছেন। বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনছেন বলে মেমারি-২ ব্লকে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। জোরজুলুমের অভিযোগে তিনি বিদ্ধ হচ্ছেন। নেতৃত্ব এই ‘ভাইজানে’র উপরও নজরদারি শুরু করেছে। অভিযোগ সত্য হলে এই ভাইজানকেও টোটকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেতৃত্ব নিয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কেউই দলের উপরে নয়। সেটা সবাইকে বুঝতে হবে।
তৃণমূল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী নাম না করে দলের এক বর্ষীয়ান নেতাকে আক্রমণ করেছেন। তিনি কাটোয়া থেকে মন্তেশ্বরে ছিপ ফেলেছেন বলে মন্ত্রী দাবি করেছেন। ভাইরাল হওয়া তাঁর এই ভিডিও এখন মন্তেশ্বরের তৃণমূল নেতা এবং কর্মীদের মোবাইলে ঘুরছে। কাটোয়া শহরে থাকেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, উনি কেন এমন কথা বলছেন বুঝতে পারছি না। এসব কথার ব্যাখা তিনিই দিতে পারবেন। মন্ত্রী অবশ্য এর ব্যাখা দিতে চাননি।