উজির আলি, চাঁচল: কংগ্রেসের প্রতীকে লড়ছেন তিনবারের প্রাক্তন বিধায়ক আসিফ মেহবুব। চুটিয়ে প্রচার করছেন কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত নির্দল প্রার্থী আঞ্জারুল হকও। গত বিধানসভা ও লোকসভায় জোট হলেও এবার পৃথকভাবে লড়ছে সিপিএম। এই তিন প্রার্থীর ভোট কাটাকুটিতে চাঁচল বিধানসভায় জয়ের পাশাপাশি ব্যবধান অনেকটাই বেশি থাকবে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।
এবার ভোটে চাঁচলে উন্নয়নের হাওয়া বইছে। সেই দিকেই মানুষ ঝুঁকছে বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। গত বিধানসভার মতো হাওয়া নেই, মানুষ সচেতন হয়েই তৃণমূল মুখী হবেন না বলে পালটা দাবি বিরোধী দলগুলির। সূত্রের খবর, চাঁচল বিধানসভায় এবার ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪২৮ জন। তার মধ্যে সংখ্যালঘু ভোট ৬০ শতাংশের বেশি। সেই অঙ্ক ভাগ হলেও বর্তমান হাওয়ায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবে তৃণমূল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। গত বিধানসভা ভোটে সিপিএম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী আসিফ মেহবুব ৩১ হাজার ৩৪৬ ভোট পেয়েছিলেন। বিজেপি পায় ৪৮ হাজার ৬২৮। ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয় তৃণমূল। তবে, এবার সিপিএম ও কংগ্রেস আলাদাভাবে লড়ছে। আবার কংগ্রেসের বহিষ্কৃত নেতা আঞ্জারুল নির্দল হিসেবে লড়াই করছেন। গত বিধানসভা ভোটের সেই অঙ্ক এবার তিনভাগ হচ্ছে। সেই নিরিখে তৃণমূল আরও বিপুল ভোটে প্রার্থী জিতবেন বলে দাবি তৃণমূলের।
কংগ্রেসের চাঁচল-১ ব্লক কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজি আতাউর রহমান বলেন, আমরা একাই লড়ছি। তৃণমূলকে মানুষ এবার প্রত্যাখ্যান করবে। কংগ্রেস পুরনো গড় ফিরে পাবে বলে আশাবাদী।
আঞ্জারুল জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন এলাকায়। বলেন, আমার মূল লড়াই তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কারও ভোট কাটতে আসিনি। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ভূমিপুত্র হিসেবে লড়াইয়ের মাঠে নেমেছি। সিপিএমের মালদহ জেলা কমিটির সদস্য জিয়াউল আনসারি বলেন, আমাদের বিপুল ভোট রয়েছে চাঁচল বিধানসভায়। এবার একলা লড়েও মানুষের সাড়া পাচ্ছেন প্রার্থী। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
চাঁচল-১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ আফসার আলির কথায়, গত বিধানসভায় জোটপ্রার্থী যত ভোট পেয়েছিলেন, এবার তা তিনভাগ হবে। ফলে বিপুল ভোটে আমাদের প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হচ্ছেন। উন্নয়নের জোয়ারে এলাকার মানুষ অন্য পথে হাঁটবে না।