নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। প্রত্যাশা অনুযায়ী জেলার সাংগঠনিকস্তরে কোনও রদবদল করেনি শাসকদল। জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে দুলাল মুর্মু ও চেয়ারপার্সন হিসেবে বীরবাহা সোরেন টুডুর উপরই দল ফের ভরসা রাখল। দায়িত্ব পেয়ে তিনবারের বিধায়ক দুলাল মুর্মুর লক্ষ্য, ছাব্বিশের ভোটের আগে জেলায় ঢিলেঢালা সংগঠন গুছিয়ে তোলা।
দুলালবাবু বলেন, দিদি আমার উপর ভরসা রেখেছেন। এবার জেলার ঢিলেঢালা সংগঠন গোছানোই আমার প্রথম কাজ। বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে জনসংযোগ ও নেতাকর্মীদের সমন্বয়ের কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে একসময় বামেরাই ছিল শেষ কথা। বাম রাজনীতির সুড়ঙ্গপথে মাওবাদীরা প্রবেশ করে। অরণ্য-অধ্যুষিত ঝাড়গ্রামে খুনোখুনির রাজনীতি শুরু হয়। ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এখানে বারবার রক্ত ঝরেছে। তৃণমূল সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় এলে ঝাড়গ্রামের রাজনীতিতেও পালাবদল ঘটে। উন্নয়নের হাত ধরে অরণ্যভূমিতে ঘাসফুল ফোটা শুরু হয়। তৃণমূলে প্রার্থী উমা সরেন ২০১৪সালে ঝাড়গ্ৰাম লোকসভা আসনে তিন লক্ষের বেশি ভোটে সিপিএম প্রার্থী পুলিনবিহারী বাস্কেকে হারিয়ে দেন। ৩৭বছর পর জেলায় বামফ্রন্টকে পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়।
লাগাতার সাফল্যের কারণে বিরোধীশূন্য ঝাড়গ্রামে পদ্মচাষের আশঙ্কা জেলা তৃণমূল নেতারা ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে এর ফল মেলে। এরপর বিজেপি প্রার্থী কুনার হেমব্রম ২০১৯সালে লোকসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী বীরবাহা সরেন টুডুকে হারিয়ে জয়ী হন। ঝাড়গ্রাম পুনরুদ্ধারে এরপরই তৃণমূল বিজেপির কুক্ষিগত তফসিলি জাতি-উপজাতি ভোট উদ্ধারে সচেষ্ট হয়। দুলাল মুর্মু, বীরবাহা সরেন টুডু, বীরবাহা হাঁসদার মতো নেতাদের সামনে আনা হয়। দুলাল মুর্মু ও বীরবাহা হাঁসদাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। বীরবাহা সরেন টুডুকে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান করা হয়। পরে তিনি জেলা পরিষদের ভোটে জয়ী হন। এখন তিনি জেলা পরিষদের বন কর্মাধ্যক্ষ। সেইসঙ্গে শাসকদলের জেলার চেয়ারপার্সনের পদ সামলাচ্ছেন। তাঁকে পুনর্বহাল করা তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দুলাল মুর্মুকে মার্চ মাসে আদিবাসী উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পর্ষদের চেয়ারপার্সন পদে বসানো হয়। জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদেও তিনি বহাল থাকলেন।
বীরবাহা সরেন টুডু বলেন, দল আমার উপর আস্থা রেখেছে। আগামী দিনে যথাযথভাবে দলের দায়িত্ব পালন করব। জামবনী ব্লকের তৃণমূল যুব সহ-সভাপতি হিমাংশু দল বলেন, তৃণমূলস্তরে কাজ করি। জেলায় বিজেপির সঙ্ঘনির্ভর রাজনীতিকে অবহেলা করা ঠিক হবে না। জঙ্গলমহল তথা ঝাড়গ্রামে রাজনীতির সমীকরণ অনেকটাই আলাদা। জেলা সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের পুনর্বহালকে রাজ্য নেতৃত্বের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছি। ( ঝাড়গ্রামে একটি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা।-নিজস্ব চিত্র)