সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: টাকা ছাড়া ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে কোনও কাজ হয় না। টাকা দিতে না পারলে মাসের পর মাস মানুষকে কাজের জন্য ঘুরিয়ে হয়রান করা হয়। বনদপ্তরের জমি পর্যন্ত ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড করে দেওয়া হচ্ছে। সাঁতুড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের বিরুদ্ধে এমনই একাধিক অভিযোগ তুলে বুধবার ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শাসকদল তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। সাঁতুড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিককে ঘিরে বিক্ষোভ চলে। টাড়াবাড়ি অঞ্চল তৃণমূল নেতৃত্বের বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। দপ্তরের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাঁতুড়ি থানার পুলিস ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে আসে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সাঁতুড়ি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক শ্রীকৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, তৃণমূলের কয়েকজন ডেপুটেশন দিতে এসেছিলেন। তাঁরা কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই চলে গিয়েছেন।
এদিন টাড়াবাড়ি অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি উত্তম গড়াই, সহ-সভাপতি দিলীপ কুমার বাউরি, পঞ্চায়েত প্রধান মিহির মণ্ডল প্রমুখ বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত কোনও কাজে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে গেলে সাধারণ মানুষকে অফিস থেকে সহযোগিতা করা হয় না। তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। দালাল না ধরলে কোনও কাজ হয় না। কোন দালালকে ধরলে কাজ হবে, কী কাগজপত্র আনতে হবে, তা দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা জানিয়ে দেন। নিজেরা টাকা না নিয়ে দালালদের মাধ্যমে টাকা নেন। টাকার বিনিময়ে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ড করে দেওয়া হয়। আবার টাকার জন্য পঞ্চায়েতের প্রধানের শংসাপত্রকে মান্যতা দেওয়া হয় না। এমনই সব অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৃণমূল নেতৃত্ব ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছে অভিযোগ পাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু, কোনও কাজ হয়নি। তাই এদিন ডেপুটেশন দিতে যাওয়া হয়। ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক এদিন ডেপুটেশন নেবেন বলে আগাম জানিয়েছিলেন। কিন্তু, ডেপুটেশন দিতে গেলে তিনি আলোচনায় বসতে চাননি। তারপরই বিক্ষোভ শুরু হয়। গেটে ঝোলানো হয় তালা।
তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি উত্তমবাবু বলেন, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকের কথামতো ওই দপ্তরের একজন টাকা ছাড়া মানুষের কাজ করেন না। আমরা দেখেছি, এক ছেলে টাকা দেওয়ায় তাঁর নামে বাবার সম্পত্তি রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। অথচ অন্য ছেলে দিন মজুরের কাজ করে, টাকা দিতে না পারায় তাঁর নামে জমি রেকর্ড হয়নি। কাশীকুড়িতে একটি জমি বনদপ্তরের রেকর্ড ভুক্ত রয়েছে। অথচ সেই জমি দালাল মাধ্যমে বহিরাগত একজনের নামে রেকর্ড করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অফিসের বেশির ভাগ কর্মী যখন খুশি আসেন ও যান। সাধারণ মানুষের কোনও কাজ তাঁরা করেন না। এদিন ডেপুটেশন দিতে এসেও আমাদের কথা শোনা হয়নি। আগামী দিন আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।
পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, পঞ্চায়েতের সার্টিফিকেটকে মান্যতা দেওয়া হয় না। এলাকার বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর। সামান্য জমি রেকর্ড করতে গেলে টাকা দিতে হয়। এটা চলতে পারে না।