নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আগামী ১২জুলাই তমলুক টাউন কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটিতে বোর্ড গঠন হবে। বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় কোনওরকম ঝামেলা যাতে না হয় সেজন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব। এছাড়াও অন্য কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের বোর্ডে থাকা কাউকে ক্রেডিট সোসাইটির বোর্ডে স্থান দেওয়া হবে না বলেও রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করেছে। এনিয়ে বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র এবং দলের জেলা কমিটির চেয়ারপার্সন তথা পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়কে দায়িত্ব দিয়েছে দল। এরআগে ডেলিগেট নির্বাচন এবং ডিরেক্টর নির্বাচন নিয়ে বিস্তর ঝামেলা হয়। তাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোর্ড গঠনে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না দল। তাই আগেভাগে সতর্ক করা হয়েছে।
গত ১৮মে তমলুক শহরে নাইট ব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির নির্বাচন হয়। ৫৮টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৫৫টি, নির্দল একটি এবং বিজেপি দু’টি আসনে জয়ী হয়। শহর তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক চন্দন ঘোড়াইকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও শেষমুহূর্তে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। প্রতিবাদে তিনি শহরের ধারিন্দা-ডহরপুর জোন থেকে নির্দল প্রার্থী হন এবং জয়ী হন। এই ঘটনায় দলীয় কোন্দল আরও বেড়েছে। বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ বছর পর ১২জুলাই শহরের প্রাচীন ওই সমবায় সমিতির নতুন বোর্ড গঠন হবে। সেই বোর্ডে কারা আসছেন তানিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
এরপর ২০জুন তমলুক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটিতে ডিরেক্টর নির্বাচন হয়। তার আগে ১৬জুন দলের রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে ১২টি আসনের জন্য ১২জনের প্যানেল তমলুকে পাঠানো হয়। প্যানেলে নাম না থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন জমা করে দেন শহর তৃণমূল সভাপতি চঞ্চল খাঁড়া। মনোনয়ন জমা পড়ার পর রাজ্য নেতৃত্ব দ্বিতীয়বার ডিরেক্টর পদে ১২জনের নামের তালিকা পাঠায়। তাতে মনোজকুমার হালদারের নাম কেটে চঞ্চল খাঁড়ার নাম ঢোকানো হয়। শেষপর্যন্ত মনোজবাবু মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এই ঘটনায় বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। একসঙ্গে ছ’জন কাউন্সিলার সাংবাদিক বৈঠক করে গোটা ঘটনায় নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। শহর সভাপতিকে সুযোগ করে দিতে মনোনয়ন জমার পর যেভাবে প্যানেল কাটাছেঁড়া করা হয়েছে তা নজিরবিহীন বলে একযোগে তাঁরা প্রতিবাদ করেন।
চঞ্চল খাঁড়া তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ভাইস চেয়ারম্যান। সেই ব্যাঙ্কের ৫০০মিটারের মধ্যে আরেকটি সমবায় ব্যাঙ্কে তাঁকে ডিরেক্টর করা নিয়ে দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে। তাই দলের রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, কোনও কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের পদে থাকা ডিরেক্টর তমলুক কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির বোর্ডে জায়গা পাবেন না। দলীয় সূত্রের খবর, মলয়কুমার মাইতি ওই সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং বিশ্বনাথ মহাপাত্র ভাইস চেয়ারম্যান হতে পারেন। প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দুই মহিলা ডিরেক্টরের মধ্যে একজন হবেন। সেক্রেটারি পদে নতুন মুখ আনা হবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সমবায় সেলের রাজ্য নেতা আশিস চক্রবর্তী বলেন, নির্বিঘ্নে যাতে বোর্ড গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় সেজন্য সৌমেন মহাপাত্র এবং দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়কে বলা হয়েছে। কোনও সমবায় ব্যাঙ্কের পদে থাকা ব্যক্তি এখানে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি কিংবা প্যানেল চেয়ারম্যান হতে পারবেন না। এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে।