Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জোড়াফুলই ফিরবে, না ফুটবে পদ্ম? ভোট নিয়ে চায়ের ঠেকে তুফানি চর্চা

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষিত হয়নি। কিন্তু ভোটের উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে মালদহের বিভিন্ন চায়ের দোকান, আড্ডার ডেকে।

জোড়াফুলই ফিরবে, না ফুটবে পদ্ম? ভোট নিয়ে চায়ের ঠেকে তুফানি চর্চা
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সৌম্য দে সরকার, মালদহ: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষিত হয়নি। কিন্তু ভোটের উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে মালদহের বিভিন্ন চায়ের দোকান, আড্ডার ডেকে। বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলিতে সকাল, সন্ধ্যা নিয়ম করে ভোটচর্চার আসর বসছে। সেখানে বসলেই কানে আসবে বিধানসভা ভোট সংক্রান্ত বিবিধ আলোচনা। আলোচকদের কেউ কেউ আবার ভোটের ফল পর্যন্ত ঘোষণা করে দিচ্ছেন। তাঁদের অনেকের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফিরবে। চায়ে চুমুক দিয়ে অন্যপক্ষের দাবি, বিজেপির হাত ধরেই রাজ্যের নির্বাচনে বদল হতে চলেছে।

Advertisement

বক্তারা কেউ সরকারি কিংবা বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকুরিরত। আবার অনেকে ব্যবসায়ী। তবে, সকলের যে নিজস্ব রাজনৈতিক পছন্দ রয়েছে, তা স্পষ্ট বক্তব্যের সুরেই।  বসন্তের আবহাওয়া উপভোগ করার ফাঁকে চায়ের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে কানে আসছে নির্বাচনের ইস্যু, সম্ভাব্য প্রার্থী, বিভিন্ন আসনের রাজনৈতিক দলগুলির এগিয়ে, পিছিয়ে থাকার সমীকরণ সহ অনেক রকম আলোচনা। তাতেই আপাতত মজে মালদহ। বিশেষত ইংলিশবাজার।
ব্যবসায়ী ছোটন মৌলিক, সমাজসেবী উত্তম ঝা, প্রাথমিক শিক্ষক অজয় বসুর মতো তৃণমূল সমর্থকরা চায়ের গ্লাস হাতে দাবি করছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্ধিত অর্থ, যুবসাথীর মতো প্রকল্প মহিলা এবং যুবকদের সমর্থন তাঁদের দলের পক্ষেই থাকবে। পাশাপাশি, রাজ্যে রাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচার, বাঙালির সংস্কৃতি অনুভব করতে না পারায় বিজেপির অবস্থা সঙ্গীন হবে বলে দাবি ঘাসফুল সমর্থকদের। 
অন্যদিকে, পদ্মফুল শিবিরের দাবি, রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি যাওয়া, বেকারত্ব, ভারী শিল্পের অভাব, সরকারি কর্মীদের ডিএ না মেলার ক্ষোভ এবার তৃণমূলকে আর ক্ষমতায় ফেরাবে না।  
পেশায় ব্যবসায়ী শুভাশিস দাস, সুশান্ত সাহা, প্রাথমিক শিক্ষক তপন দাশগুপ্ত নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় সরাসরি দিতে না চাইলেও কথার আড়ালেই বোঝা গিয়েছে, তাঁদের সমর্থন পুরোপুরি বিজেপির দিকে। এরই মাঝে তৃতীয় বিকল্প নির্বাচনকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক মন্তব্য করছেন সংখ্যার নিরিখে অনেকটাই কম কংগ্রেসের মিন্টু শেখ বা অর্ঘ্য দাসের মতো সিপিএম সমর্থকরা। 
ঘড়ির কাঁটায় নজর না রেখে এমনকি বাজারের থলি পাশে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলছে চায়ের নির্বাচনী ঠেক। খুশি চা বিক্রেতারাও। চায়ের বিক্রি বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। চা বিক্রেতা পাপাই দাসের মন্তব্য, কে ক্ষমতায় আসবে জানি না। তবে, এখন ভোট ঘিরে আমার বাড়তি লক্ষ্মীলাভ  হচ্ছে। সেটাই বা কম কী?

সম্পর্কিত সংবাদ