Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সন্দেশখালিতে জয়ের হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার বার্তা জোড়াফুলে

২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সন্দেশখালি কেন্দ্রে জিতেছে তৃণমূল।

সন্দেশখালিতে জয়ের হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলার বার্তা জোড়াফুলে
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৬ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সন্দেশখালি কেন্দ্রে জিতেছে তৃণমূল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সন্দেশখালিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে হ্যাটট্রিক করার বার্তা উঠে এল তৃণমূলের বৈঠকে। সেখানে গোষ্ঠী-কোন্দল এড়িয়ে একজোট হওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কে কার কাছের লোক, কে কার অনুগামী তা সরিয়ে রেখে তৃণমূলের পতাকা তুলে ধরাই হবে একমাত্র লক্ষ্য, এই কথা বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

রবিবার লেকটাউনের একটি ব্যাঙ্কোয়েট হলে সন্দেশখালি এলাকার স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্যের মন্ত্রী তথা সন্দেশখালি এলাকার সাংগঠনিক নজরদারির দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর নেতৃত্বে এই বৈঠক হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বৈঠকে ডাকা হয়েছিল সন্দেশখালি এলাকার বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহ সভাপতি, কর্মাধ্যক্ষদের। ছিলেন ১৬টি অঞ্চলের প্রধান, উপপ্রধান ও ব্লক সভাপতিরা। এলাকায় এখন সাংগঠনিক অবস্থা কীরকম, কোথায় সমস্যা, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। 
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় থেকে খবরের শিরোনামে এসেছে সন্দেশখালি। ওই এলাকা নিয়ে নানা ধরনের ঘটনাকে সামনে এনে বিজেপি ভোট বাক্সে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পরে স্ট্রিং অপারেশনে সবটা সামনে চলে আসে। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি সেই সময় সন্দেশখালি নিয়ে মিথ্যাচার করে বাংলাকে অপমান করেছে। ফলে আগামী বছর বিধানসভা ভোটের আগে দলের কর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। সন্দেশখালি বিধানসভা কেন্দ্রে ফের জয় ছিনিয়ে আনতে এলাকার সকল তৃণমূল কর্মীকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে। 
তবে ওই এলাকায় স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বিবাদের খবর এসেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। এমনকী এদিনের বৈঠকের মধ্যেও বিবাদের ছবি ধরা পড়েছে। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকের মধ্যেই ব্লক সভাপতির কাজ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন দলেরই অন্য কর্মীরা। পাল্টা বক্তব্য অন্য অংশের। বৈঠকেই শুরু হয় তুমুল বাকবিতণ্ডা। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ পর্যন্ত হয়েছে। এমনকী, হাতাহাতির উপক্রমও হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে বিবাদ সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে বলা হয়েছে, ইচ্ছামতো অঞ্চল সভাপতি পরিবর্তন করা যাবে না। কোনও অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে দলকে জানাতে হবে। তারপর সুজিত বসু ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। কাউকে বদল করার প্রয়োজন হলে তৃণমূল নেত্রীর অনুমতি নিয়ে করা হবে। পুরনো দিনের কোনও কর্মীকে বাদ দেওয়া চলবে না। 
এদিনের বৈঠকে বালুর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সংগঠন একটা সময় নিজের হাতে দেখতেন তিনি। জেলার ৩৩টি বিধানসভা এলাকা তাঁর নখদর্পণে। ফলে বালুকে আবার আগের সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সন্দেশখালির তৃণমূল কর্মীরা।
আগামী রবিবার ধামাখালিতে একটি কর্মী সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে ভোটার তালিকার কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার কার্ড আছে কি না কিংবা ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ