নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার শোরগোল পড়ল পিংলা ব্লকের ধনেশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪ জনই প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন পিংলার বিডিওর কাছে। এনিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব। কেন আলোচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, সেই প্রশ্ন তুলছেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা। অনাস্থা প্রস্তাব আনার কারণ হিসেবে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আনছেন বিক্ষুব্ধ পঞ্চায়েতের সদস্যরা। অপরদিকে, পঞ্চয়েতের প্রধানও একাধিক অভিযোগ করছেন সদস্যদের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধী শিবির। এদিন পঞ্চায়েতের প্রধান পুষ্পেন্দু দে বলেন, অনাস্থা আনা হচ্ছে বলে শুনেছি। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও নানা সমস্যা করা হচ্ছে। বিরোধিতা করেছি বলেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। জোর করে অনাস্থা প্রস্তাবে বেশ কিছু সদস্যকে স্বাক্ষর করানো হয়েছে।তবে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বিকাশ মাইতি বলেন, কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই কাজ করছেন পঞ্চায়েত প্রধান। পঞ্চায়েতের গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। বাধ্য হয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে সকলের অনাস্থা? বাকি ১৪ জন পঞ্চায়েত সদস্যের অভিযোগ, প্রধান পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করে নিজের মর্জি মাফিক কাজ করেন। বহু কাজের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মানা হয় না। এর ফলে পঞ্চায়েতে কাজের গতি কমেছে। পিংলার বিডিও লাকপা ওয়াংচু শেরপা বলেন, এভাবে অনাস্থা আনা যায় না। নিয়ম অনুসারে অনাস্থা আনতে গেলে আড়াই বছর পেরতে হবে। পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বাইরে আনা যাবে না। যদি কারও অভিযোগ থাকে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, তৃণমূল মানেই দুর্নীতি। কে কত টাকার ভাগ পাবে, তা নিয়ে ঝগড়া। মানুষ জবাব দেবে।