Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর জন্মস্থানেই পিছিয়ে জোড়াফুল, কুসুম্বায় লিড চাই, শপথ নিয়ে মাঠে নামলেন তৃণমূল নেতারা

মুখ্যমন্ত্রীর জন্মস্থানেই পিছিয়ে জোড়াফুল, কুসুম্বায় লিড চাই, শপথ নিয়ে  মাঠে নামলেন তৃণমূল নেতারা
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পিছিয়ে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর জন্মস্থান রামপুরহাটের কুসুম্বায় এবার এগিয়ে থাকার অঙ্গীকার করলেন তৃণমূল নেতারা। বুধবার রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয়ে কুসুম্বা অঞ্চল নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসেন দলের জেলা চেয়ারম্যান তথা এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে এই অঞ্চলে ভুয়ো ভোটার খুঁজতে কমিটি গড়ে দেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক আলোচনা হয়। আশিসবাবু বলেন, এবার এই অঞ্চল থেকে লিড দিতে সমস্ত নেতা একসঙ্গে শপথ নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃভিটে রামপুরহাটের চাকাইপুর গ্রাম হলেও অধিকাংশ সময় তিনি থেকেছেন লাগোয়া কুসুম্বা গ্রামে মামার বাড়িতে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি একাধিকবার মামার বাড়িতে এসেছেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এসেছেন। 

Advertisement

গত বছর ৫ মে বোলপুরে প্রচারে এসে স্মৃতিচারণায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘চাকাইপুর আমার পিতৃভূমি। তবে আমার এখনও সেখানে যাওয়া হয়নি। আমি কুসম্বা গ্রামে জন্মেছি। সেখানে অনেকবার গিয়েছি’। কিন্তু বিগত কয়েকবছর ধরে এই গ্রাম থেকে পিছিয়ে থাকতে হচ্ছে তৃণমূলকে। গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই অঞ্চলে বিজেপির থেকে প্রায় তিন হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। গত বিধানসভা ভোটে সেই পিছিয়ে থাকার ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২১০০তে। পঞ্চায়েত ভোটে এই অঞ্চল দখল করলেও ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। পঞ্চায়েত সমিতির আসনে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মামাতো ভাই তথা দলের রামপুরহাট ১ ব্লক সভাপতি নীহার মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী পম্পা মুখোপাধ্যায় বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। 
এবার কুসুম্বা অঞ্চল হারের শাপমোচন ঘটাতে কোমর বেঁধে নেমেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এই অঞ্চলে পঞ্চায়েত সমিতির তিনটি আসন রয়েছে। তিনটি আসনের দায়িত্ব পৃথক পৃথক নেতাদের দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বুথ ভিত্তিক কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় ক্ষোভ বিক্ষোভ মেটাতে বাড়ি ভাগ করে টিম তৈরি করে মনিটরিং করছেন স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের আদিবাসীদের সংগঠিত করতে ব্লক কমিটির দুই নেতা জহরুল ইসলাম ও মিলন শেখকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতের পাশাপাশি টিআরডিএর অন্তর্ভুক্ত করে কসুম্বা গ্রামের উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক লক্ষ টাকায় কুসুমাক্ষী মন্দিরের নবরূপায়ণ ঘটানো হয়েছে। 
এদিন রামপুরহাটের দলীয় কার্যালয়ে এই অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আশিসবাবু। সেখানে ভুয়ো ভোটার খুঁজে বের করতে বাড়ি বাড়ি তালিকা নিয়ে সার্ভের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন বিধায়ক। সেই সঙ্গে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকেই এই অঞ্চল থেকে এবার লিড দেওয়ার শপথ গ্রহণ করেন নেতারা। 
আশিসবাবু বলেন, ওই অঞ্চল থেকে এবার লিড পেতে স্থানীয় নেতারা এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন। কুসুম্বা অঞ্চল সভাপতি রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তর নেতৃত্বে ব্যাপক কাজ শুরু হয়েছে। নেতাদের আত্মবিশ্বাস, এবার পিছিয়ে থাকার তকমা ঘুচিয়ে কুসুম্বায় সাফল্য আসবেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ