নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: দায়িত্ব পাওয়ার পর পুরুলিয়া শহরের তৃণমূল কাউন্সিলার ও দলীয় পদধিকারীদের নিয়ে প্রথম বৈঠকে বসেছিলেন জেলা সভাপতি রাজীব লোচন সরেন। সেই বৈঠকেই ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হল বৈঠকে। পুরসভার কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন দলীয় পদাধিকারীরা।
মঙ্গলবার বিকেলে ওই বৈঠকটি হয় পুরুলিয়া শহরের একটি বেসরকারি অতিথিশালায়। বৈঠকে জেলা সভাপতি ছাড়াও ছিলেন দলের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাত, পুরুলিয়া শহর তৃণমূলের সভাপতি প্রদীপ ডাগা, চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি প্রমুখ। বৈঠক সূত্রের খবর, বৈঠকে এক মহিলা কাউন্সিলারের স্বামী দলের ওয়ার্ড সভাপতি ও শাখা সংগঠনের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কোনও মিটিং মিছিল হলে নাকি শাখা সংগঠনকে কোনও ভূমিকাতেই দেখা যায় না! এনিয়ে গর্জে ওঠেন শাখা সংগঠনের নেতারা। ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তাঁরা পাল্টা অভিযোগ করেন, কাউন্সিলারদের একাংশ শাখা সংগঠন কিংবা ওয়ার্ড নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। একটা ত্রিপল চাইলেও পাওয়া যায় না! তাছাড়া, ফুটপাত উচ্ছেদ হোক কিংবা টোটোর বিরুদ্ধে অভিযান— দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই পুরসভা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় বলে অনুযোগ।
মঙ্গলবারের বৈঠকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অতি’ সক্রিয় এক মহিলা নেত্রী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরব হন। জেলা সভাপতির কাছে তিনি একাধিক অভিযোগ জানান। এনিয়ে বচসা বেধে যায়। চেয়ারম্যানও ওই মহিলা নেত্রীকে পাল্টা বলেন, ‘আমার মুখ খুলিও না। আমি বলতে শুরু করলে কিন্তু সমস্যায় পড়বে।’ এতে অস্বস্তিতে পড়েন ওই নেত্রী। এদিনের বৈঠকে লোকসভা ভোটে শহর তৃণমূলের হতাশজনক ফলাফলের প্রসঙ্গ উঠে আসে। বৈঠকে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শান্তিরাম বলেন, লোকসভাতেও তো আমি হেরেছি। কিন্তু অতীত ভুলে আমাদের নতুন করে এগিয়ে যেতে হবে। সংগঠনকে চাঙ্গা করতে হবে। জেলা সভাপতির বার্তা, আমিত্বে ভুগলে হবে না। সবাই মিলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দল যাঁকে যেমন দায়িত্ব দেবে, সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব মেটানোর বার্তা দেন জেলা সভাপতি। লোকসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের জন্য নেতৃত্বের কাছে প্রকাশ্যেই ক্ষমা চান শহর তৃণমূলের সভাপতি প্রদীপ ডাগা। শহর সভাপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর পদের প্রতি কোনও লোভ নেই। তাঁর ভূমিকায় দল অসন্তুষ্ট হলে তিনি পদ ছাড়তেও রাজি। যদিও জেলা সভাপতি প্রদীপবাবুকে অতীত ভুলে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বৈঠক করার নির্দেশ দেন। শহর সভাপতি বলেন, সাময়িক বিশৃঙ্খলা হলেও বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসু হয়েছে। আগামী দিনে কীভাবে দল পরিচালন হবে, তা নিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সভাপতি। আগামী নির্বাচনে দলকে জেতাতে আমরা সবরকম প্রস্তুতি শুরু করেছি। জেলা সভাপতি বলেন, গোষ্ঠী কোন্দল নয়, ইগোর লড়াই চলছিল নেতাদের মধ্যে। তবে এগুলো সব ঠিক হয়ে যাবে। নেতাদের নিয়ে বৈঠক তৃণমূল জেলা সভাপতির। -নিজস্ব চিত্র