নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: জেলা সভাপতি সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতারা গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে আগেই তোপ দেগেছেন। এবার শাসকদলের ব্লকস্তরের নেতারাও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানাতে শুরু করেছেন। বাঁকুড়ার ইন্দপুরে তৃণমূলের কর্মসূচি থেকে দলের ব্লক সভাপতি বিজেপির ‘চ্যাংড়া’ নেতাদের ঘরছাড়া করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমনকী দলনেত্রীর বদনাম করলে ঝাঁটাপেটা করা হবে বলেও তিনি হুমকি দিয়েছেন। ঘটনায় বাঁকুড়ার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপিও তৃণমূলকে পাল্টা আক্রমণ করেছে। বিধানসভা ভোটের বছরখানেক আগে থেকে জঙ্গলমহলের এই জেলায় যুযুধান দু’পক্ষের মধ্যে তরজা শুরু হয়ে গেল বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। ভোটের আগে জেলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলে অনেকে মনে করছেন।
রবিবার বিকেলে ইন্দপুর ব্লক কমিউনিটি হলে মহিলা তৃণমূলের তরফে অঞ্চলে আঁচল কর্মসূচি পালন করা হয়। সেই উপলক্ষ্যে একটি সভা হয়। সেখানে ইন্দপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি রেজাউল খান বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামে বিজেপি ভোটপ্রচার করতে গেলে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। কীভাবে তা দেবেন, তা আপনারা জানেন। যেভাবে পঞ্চায়েত, লোকসভা ও বিধানসভার উপনির্বাচন করেছিলাম, আপনারা মা-বোনেরা সেইভাবেই সঙ্গে থাকলে বিজেপির চ্যাংড়া নেতাদের বাড়িছাড়া করব। আপনারা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মী। কেউ তাঁর বদনাম করলে তাকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে ঝাঁটাপেটা করবেন।’
পরে ব্লক তৃণমূল সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, আমি রাজনৈতিকভাবে ও গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের মাধ্যমে বিজেপিকে উৎখাত করার কথা বলতে চেয়েছি। কোনও ব্যক্তিকে ঘরছাড়া বা ঝাঁটাপেটা করার কথা বলতে চাইনি। বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে বেড়াচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের তার পাল্টা সভা, মিছিল করার জন্য বলেছি। আমরাও মানুষের সামনে দলীয় কর্মসূচি থেকেই বিজেপির কুৎসা ও অপপ্রচারের জবাব দেব।
বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুর্নীতি সহ অন্যান্য ইস্যুতে আমরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতেই তৃণমূল প্রমাদ গুনতে শুরু করেছে। ওদের সংগঠন ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। সেই হতাশা থেকেই তৃণমূল নেতারা এভাবে বিজেপিকে আক্রমণ করছেন। মানুষ তৈরি আছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া তথা জঙ্গলমহলের ভোটাররা ওদের জেলা থেকে উৎখাত করবে।উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় বিজেপি ও তৃণমূল সাংগঠনিকভাবে সারা বছরই একে অপরকে টেক্কা দেয়। গত কয়েকটি নির্বাচনে উভয় দলই বেশকিছু আসনে জয়লাভ করেছে। আগের তুলনায় গেরুয়া শিবিরের শক্তি অবশ্য অনেকটাই কমেছে। তবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি ও মুর্শিদাবাদ কাণ্ডকে হাতিয়ার করে বিজেপি এই জেলায় ফের হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তৃণমূলও কার্যত বিনা যুদ্ধে জমি ছাড়তে নারাজ। বিধানসভা নির্বাচনকেই দুই দল পাখির চোখ করেছে। ফলে উভয় দলের নেতাদের মধ্যে এখন থেকেই ‘যুদ্ধং দেহী’ ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।



