নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে আর প্রার্থী হতে চান না। জন্মভূমি শিলিগুড়িই পছন্দ। সেই ঘোষণার পাঁচদিনের মাথায় বুধবার শিলিগুড়িতে দেওয়াল লিখন করলেন মেয়র তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌতম দেব। একইসঙ্গে তিনি ফের বলেন, দল চাইলে এখানে প্রার্থী হব। আমআদমিকে নিয়ে শহরের উন্নয়নে আরও জোর দেব। মেয়রের এমন কর্মসূচি ঘিরে শহরের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পর পর তিনবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হন গৌতম। যারমধ্যে দু’বার জিতে মন্ত্রী হন। তৃতীয়বার তিনি পরাজিত হন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম ধনতলায় জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন, আর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে প্রার্থী হতে চাইছি না। নিজের জন্মভূমি শিলিগুড়িতে ফিরে যাচ্ছি।
শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়ায় মেয়রের বাড়ি। এদিন দলীয় কর্মীদের নিয়ে কলেজের সামনে একটি দেওয়ালে দলীয় প্রতীকচিহ্ন আঁকেন। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিক। ভোটের আর সময় নেই। তাই দলের ছাত্র, যুব সহ বিভিন্ন শাখা সংগঠন দেওয়াল দখল ও লিখন করছে। তাদের সঙ্গে আমিও শামিল হয়েছি। তাই এদিন দেওয়াল লিখন করেছি। দল প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই সেই নাম লেখা হবে।
এদিকে, শিলিগুড়ি কেন্দ্রই যে পছন্দ, তা এদিনও বুঝিয়ে দিয়েছেন মেয়র। সেই সঙ্গে তিনি এখানে গা ঘামানোয় আরও জোর দিচ্ছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন পাড়া চষে বেড়াচ্ছেন। মেয়র বলেন, দল চাইলে এখানে প্রার্থী হতে পারি। আগামীতে সর্বস্তরের নাগরিকদের নিয়ে শহরের উন্নয়নে আরও জোর দিতে চাই। পুরসভা ও রাজ্য সরকার আমাদের থাকলে উন্নয়নমূলক কাজে আরও জোয়ার আসবে।
মেয়রের বক্তব্য, তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, মেয়র ছাড়াও শিলিগুড়ি কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার জন্য তৃণমূল শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা-নেত্রীর নাম ভাসছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, বর্তমানে এই শহরে হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে মেয়র অন্যতম। কাজেই, তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব এখানে তাঁকেই হয়তো টিকিট দিতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা চেয়ারম্যান (সমতল) সঞ্জয় টিবরেওয়াল অবশ্য বলেন, প্রার্থী নিয়ে এখান থেকে কিছু বলার নেই। এ ব্যাপারে যা বলার দলের রাজ্য কমিটি বলবে। এখন আমরা নির্বাচনের জন্য জোর প্রস্তুতি শুরু করেছি। দেওয়াল লিখনের পাশাপাশি বুথে বুথে নির্বাচনী কার্যালয় খোলা হচ্ছে। • নিজস্ব চিত্র।