Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সমবায়ের ১৩ কোটি টাকা তছরূপে ধৃত তৃণমূল নেতা

প্রায় সাড়ে ১৩কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগে কৃষ্ণনগর শহরের বর্ষীয়ান দাপুটে তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল কোতোয়ালি থানার পুলিস। তাঁর নাম শিবনাথ চৌধুরী।

সমবায়ের ১৩ কোটি টাকা তছরূপে ধৃত তৃণমূল নেতা
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: প্রায় সাড়ে ১৩কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগে কৃষ্ণনগর শহরের বর্ষীয়ান দাপুটে তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করল কোতোয়ালি থানার পুলিস। তাঁর নাম শিবনাথ চৌধুরী। অভিযোগ, তিনি সমবায় সমিতিতে রাখা জনগণের টাকা চিটফান্ডে বিনিয়োগ করে মোটা অঙ্কের আর্থিক তছরূপ করেছেন।‌ শুক্রবার সকালে কৃষ্ণনগর শহরে বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারিতে শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এদিন সমবায়ের অফিসের বাইরে টাকা তোলার জন্য সদস্যদের লম্বা লাইন পড়ে যায়।

Advertisement

শিবনাথবাবু কৃষ্ণনগর শহরের কালীনগর কোঅপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন এই বিপুল পরিমাণ টাকা নয়ছয় হয়েছিল। তা নিয়ে কয়েকবছর ধরে আদালতে মামলা চলছিল। সম্প্রতি আদালতের তরফে শিবনাথ চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় দিয়ে পুলিসকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তার ভিত্তিতেই পুলিস এই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন কৃষ্ণনগর আদালতে তোলার আগেই শিবনাথবাবু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, হাইকোর্ট নদীয়া জেলায় সমবায় দপ্তরকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছিল।‌ সেইমতো আমরা অভিযোগ পেয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করি। তাকে পুলিস হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
বহুদিন ধরে কালীনগর কোঅপারেটিভ কলোনি অ্যান্ড ক্রেডিট সোসাইটির চেয়ারম্যান ছিলেন শিবনাথ চৌধুরী। এখন ওই সোসাইটির ডিরেক্টর পদে রয়েছেন। অতীতে কৃষ্ণনগর শহর তৃণমূলের সভাপতি পদও সামলেছেন। মৃৎশিল্পের শহরের অত্যন্ত দাপুটে নেতা হিসেবেই পরিচিত। পাঁচবছর আগে তাঁর বিরুদ্ধে সমবায় সমিতিতে গচ্ছিত জনগণের টাকা তছরূপের অভিযোগ ওঠে। কৃষ্ণনগরের কোজাগরী মহিলা ঋণদান সমবায় সমিতির চেয়ারপার্সন নন্দিতা ঘোষ এই অভিযোগ আনেন। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। শিবনাথ চৌধুরীর বিরুদ্ধে সমবায় দপ্তরে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়।‌ সেই তদন্তে দেখা যায়, ২০১১ সাল থেকে কালীনগর কোঅপারেটিভে থাকা জনগণের টাকা নানাভাবে সাহারা চিটফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। যদিও জনগণের টাকা এভাবে চিটফান্ডে বিনিয়োগের নিয়ম নেই। কিন্তু সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে মোটা টাকা লাভের আশায় বিনিয়োগ করা হয়।‌ ২০২২-’২৩ সালের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, সবমিলিয়ে ১৩কোটি ৪৬লক্ষ ওই চিটফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। ২০২৪সালে সমবায় দপ্তরের তরফে সেই রিপোর্ট দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের তরফে সেই মামলায় কালীনগর কোঅপারেটিভের বর্তমান ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।‌
আদালতে যাওয়ার আগে শিবনাথ চৌধুরী বলেন, আমাকে হেনস্তা করার জন্য এই অভিযোগ আনা হয়েছে।‌ কোনও টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি। এর সঙ্গে নন্দিতা ঘোষ ও কিছু সরকারি আধিকারিক যুক্ত।
নন্দিতা ঘোষ বলেন, ২০২০-’২১সালে আমি এই অনিয়মের বিষয়টি প্রথমে সমবায় দপ্তরে জানাই। সেইমতো দপ্তর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। গতবছর আমি কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করি। হাইকোর্টের তরফে সমবায় দপ্তরকে তদন্তের রিপোর্ট আমাকে দিতে বলা হয়। গতবছরের শেষদিকে সেই রিপোর্ট পাই।‌ যার ভিত্তিতে আমি সর্বত্র অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশনও দাখিল করি। কয়েকদিন আগে কোতোয়ালি থানায় শিবনাথ চৌধুরীর দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে জয় পেলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ