সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার পুরসভা এলাকায় ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির কাজ শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাড়ি বাড়ি স্ক্রুটিনির সঙ্গে তারা জনসংযোগের কাজ করছে। জনসংযোগে দলীয় কর্মীরা আদৌ মানুষের অভাব অভিযোগ শুনছেন কি না তার নজরদারির জন্য তৃণমূল ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অবজার্ভার নিয়োগ করেছে। প্রতিদিন বুথভিত্তিক জনসংযোগের রিপোর্ট দলের ব্লক সভাপতির কাছে পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছে দল। ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির সঙ্গে জনসংযোগ শুরুর আগে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তৃণমূলের টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা, শুধু ভোট এলে তবেই দলের কাজে নামব, আর অন্য সময় দলের কাজ করব না। শুধু দলকে দেখাতে নেতা সাজব, দলীয় কর্মীদের এই মানসিকতা সম্পূর্ণ ঝেড়ে ফেলতে হবে। কিন্তু পরবর্তী বিধানসভা ভোটের এখনও এক বছর বাকি। তার এত আগে কেন শহর এলাকায় শাসক দলের এই জনসংযোগ?লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডে বিজেপি ১২ হাজার ৬৮২ ভোটের লিডের লিড পেয়েছিল। পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডের ৬০টি বুথের মধ্যে তৃণমূল মাত্র দু’টি বুথে লিড পেয়েছিল। বাকি ৫৮টি বুথেই লিড পেয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটের পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে আলিপুরদুয়ার পুর এলাকায় বিজেপির এই শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে গেলে তৃণমূলকে সময় নিয়ে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, তার জন্যই শহুরে ভোট দলে ফেরাতে তৃণমূল এখন থেকেই শহর এলাকায় জনসংযোগের কাজ শুরু করে দিয়েছে। তৃণমূলের টাউন ব্লক সভাপতি দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি ঠিক তা নয়। আমরা সারা বছরেই মানুষের পাশে থাকি। আসলে শুধু ভোটের সময় দলের কাজে নামলে কোনও কাজ হয় না। সেজন্যই দলীয় কর্মীদের বলা হয়েছে এখন থেকেই জনসংযোগে মানুষের অভাব অভিযোগের কথা শুনতে হবে। মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে কি না তাও শুনতে বলা হয়েছে দলীয় কর্মীদের। বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সহ সভাপতি রাজু ঘোষ বলেন, শহরের মানুষ রাজনীতি ও ভোট সম্পর্কে সচেতন। তাই তৃণমূলের বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ করেও কোনও লাভ হবে না।